ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এশিয়া প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইলেক্ট্রো মার্টের সিইও নুরুল আফসার গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির চেয়ে কেন এগিয়ে এমবাপ্পে? দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম আজ প্রকাশিত হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পেল ৩০৪ শিক্ষার্থী চীনে আঘাত হানলো শক্তিশালী টাইফুন বাভি, নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ টানা বৃষ্টিতে নাকাল রাজধানী: বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টে অর্ধদিবস ছুটি শাহজালালের মাজারে ১৯ দিন পর মিলেছে অর্ধকোটি টাকা প্রকাশিত হলো ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রে বিলীন ২৫ বসতঘর, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ক্রমাগত ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ২৫ বাড়ি সহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০ পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। নদের তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তীরবর্তী মানুষ।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার কয়েকটি স্থানে গত তিন দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ এলাকায় সোমবার ভোরবেলা ৩০ মিনিটে ২৫ বাড়িসহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এছাড়াও বৈদ্যুতিক লাইনের ৬টি খুঁটি এবং শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মনুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা।

চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙনে স্থানীয় আতিকুর রহমান, আনসার আলী, আ. হামিদ, বক্কর আলী, লাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফুলু মিয়া, মোনছোর মেম্বারসহ অনেকে ভিটেবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। এ সময় ভাঙনের মুখে থাকা বাড়িঘর সরিয়ে নিতে দেখা যায় ভুক্তভোগীদের।

বিশারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়া, তোফায়েল হোসেন ও মুকুল মিয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ আমাদের বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার হারিয়ে ফেলেছি। লাখ লাখ টাকার সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছি। ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজার নদীতে চলে যাবে। ইতিমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও বিলীন হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ব্যাপক ভাঙন আসলে সামান্য কিছু দিয়ে রক্ষা করা কঠিন। ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে তিনি জানান।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চরাঞ্চলের এত দীর্ঘ ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে মাত্র ১ হাজার ৫০০টি জিও বস্তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। তাই ভাঙনের মুখে থাকা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রে বিলীন ২৫ বসতঘর, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ

আপডেট সময় : ০২:১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ক্রমাগত ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ২৫ বাড়ি সহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০ পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। নদের তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তীরবর্তী মানুষ।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার কয়েকটি স্থানে গত তিন দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ এলাকায় সোমবার ভোরবেলা ৩০ মিনিটে ২৫ বাড়িসহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এছাড়াও বৈদ্যুতিক লাইনের ৬টি খুঁটি এবং শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মনুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা।

চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙনে স্থানীয় আতিকুর রহমান, আনসার আলী, আ. হামিদ, বক্কর আলী, লাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফুলু মিয়া, মোনছোর মেম্বারসহ অনেকে ভিটেবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। এ সময় ভাঙনের মুখে থাকা বাড়িঘর সরিয়ে নিতে দেখা যায় ভুক্তভোগীদের।

বিশারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়া, তোফায়েল হোসেন ও মুকুল মিয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ আমাদের বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার হারিয়ে ফেলেছি। লাখ লাখ টাকার সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছি। ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজার নদীতে চলে যাবে। ইতিমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও বিলীন হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ব্যাপক ভাঙন আসলে সামান্য কিছু দিয়ে রক্ষা করা কঠিন। ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে তিনি জানান।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চরাঞ্চলের এত দীর্ঘ ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে মাত্র ১ হাজার ৫০০টি জিও বস্তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। তাই ভাঙনের মুখে থাকা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।