মোদি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগিয়ে যান। এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, এর আগের দিন ‘তেলাপোকা’ বা সিজেপি আন্দোলনের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনার পর কংগ্রেস এই কর্মসূচি ঘোষণা করে।
রাহুল গান্ধী রাতভর বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ করা উচিত, কারণ তারা ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো জবাবদিহি করতে চায় না এবং সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক।
বিক্ষোভ শুরুর পর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে এসে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো সমাধান আসেনি। কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেইন জানান, সরকার বিক্ষোভ প্রত্যাহার করতে বললেও তাদের দাবি না মানায় তারা রাজি হননি। কংগ্রেসের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।
এদিকে দিল্লি পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কংগ্রেসের এই কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তবে কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর জানান, তাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ এবং সংসদে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। বিরোধী শিবিরের মধ্যেও এই কর্মসূচি নিয়ে মতভেদ রয়েছে; আম আদমি পার্টি (এএপি) দাবি করেছে, এটি বিজেপিরই একটি কৌশল।
সংসদেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে অচলাবস্থা চলছে। মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে কথা বলতে দাঁড়ালেই তাদের মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকার জানিয়েছে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে কোনো সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো একটি জাতীয় দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে হাসপাতালে পরিদর্শন করেছেন।




























