ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, সরাতেই লাগবে ১০ বছর এরদোগানকে কাঠগড়ায় তুলতে আইসিসিতে মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত, আহত ৭ বাংলা কিউআর লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৯৯ অপারেটর নিয়োগের সরকারি আদেশ পাঁচ দিনেও পায়নি বিপিসি পুতিন কেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছেন: ক্ষমতার রাজনীতি ও বাস্তবতা ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, জানালেন কারণ

সাংবাদিকতার তিক্ত অভিজ্ঞতা ও এক সাংবাদিকের আত্মকথন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শূন্যদশকের মাঝামাঝি সময়ে, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে সাংবাদিকতার এক জটিল জগতে প্রবেশ করেন লেখক। উত্তরাঞ্চলের তৎকালীন জনপ্রিয় দৈনিক ‘আজ ও আগামীকাল’-এর সম্পাদক তাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই তাকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। একদিকে পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে পারিবারিক সংকট—এই দুইয়ের চাপে দিশেহারা ছিলেন তিনি। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় বেতন চেয়েও পাননি তিনি। সেই রাতে তার বাবা মারা যান, অথচ অভাবের কারণে তিনি সময়মতো বাড়ি পৌঁছাতে পারেননি। পরদিন ভোরে কাজিনের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে মাইকিং থেকে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর পান। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে জড়িয়ে কাঁদলেও, শোকের তীব্রতায় তার চোখে পানি ছিল না, যা দেখে অনেকে তাকে পাষাণ বলে ভুল করেছিলেন।

এই ঘটনার পর থেকে সম্পাদকদের প্রতি এক ধরনের চাপা ক্ষোভ তৈরি হয় তার মনে। এরপর ‘সংবাদ’ পত্রিকায় বগুড়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং বিলু ভাইয়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। নিয়োগ পাওয়ার আশায় টানা ছয় মাস ১০-১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে থাকেন। এর পাশাপাশি রাতের বেলা ‘আজ ও আগামীকাল’-এও কাজ চালিয়ে যেতেন। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে এক পর্যায়ে অফিসে তার নাকে-মুখে রক্ত চলে আসে। চিকিৎসক তাকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার কথা জানিয়ে টেনশন কমাতে পরামর্শ দেন।

পেশাগত জীবনে ল্যাপটপ কেনার মতো সামান্য স্বপ্নও পূরণ হয়নি তার। অফিসের আর্থিক অনিয়ম ও সিনিয়রদের অসহযোগিতার কারণে প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন তিনি। এক ঈদে বিলু ভাইয়ের বিলের সঙ্গে তার বিল পাঠানোয় তিনি সব টাকা একসঙ্গে পাননি, ফলে স্বপ্নের ল্যাপটপটিও কেনা হয়নি। কাজের পরিধি বাড়াতে এক পর্যায়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। কিন্তু রাজধানীতে এসে সাংবাদিকতার ভিন্ন চিত্র দেখেন তিনি। সেখানে দক্ষতা বা যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ক্ষমতার প্রভাবই বেশি প্রাধান্য পায়। তার অভিজ্ঞতায়, ঢাকার সাংবাদিকতায় সম্পাদকেরা সরকারের তোষামোদকারী হিসেবে কাজ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষের চেয়ে অর্থ ও ক্ষমতাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মন্ত্রী, এমপি ও আমলাদের ঝলসানো আলোয় মাঝারি ও প্রান্তিক সাংবাদিকদের বিষণ্ণতায় ভরা গল্পগুলো চাপা পড়ে যায়।

(চলবে) (সুইসাইড নোটের জীবন: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকতার তিক্ত অভিজ্ঞতা ও এক সাংবাদিকের আত্মকথন

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শূন্যদশকের মাঝামাঝি সময়ে, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে সাংবাদিকতার এক জটিল জগতে প্রবেশ করেন লেখক। উত্তরাঞ্চলের তৎকালীন জনপ্রিয় দৈনিক ‘আজ ও আগামীকাল’-এর সম্পাদক তাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই তাকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। একদিকে পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে পারিবারিক সংকট—এই দুইয়ের চাপে দিশেহারা ছিলেন তিনি। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় বেতন চেয়েও পাননি তিনি। সেই রাতে তার বাবা মারা যান, অথচ অভাবের কারণে তিনি সময়মতো বাড়ি পৌঁছাতে পারেননি। পরদিন ভোরে কাজিনের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে মাইকিং থেকে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর পান। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে জড়িয়ে কাঁদলেও, শোকের তীব্রতায় তার চোখে পানি ছিল না, যা দেখে অনেকে তাকে পাষাণ বলে ভুল করেছিলেন।

এই ঘটনার পর থেকে সম্পাদকদের প্রতি এক ধরনের চাপা ক্ষোভ তৈরি হয় তার মনে। এরপর ‘সংবাদ’ পত্রিকায় বগুড়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং বিলু ভাইয়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। নিয়োগ পাওয়ার আশায় টানা ছয় মাস ১০-১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে থাকেন। এর পাশাপাশি রাতের বেলা ‘আজ ও আগামীকাল’-এও কাজ চালিয়ে যেতেন। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে এক পর্যায়ে অফিসে তার নাকে-মুখে রক্ত চলে আসে। চিকিৎসক তাকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার কথা জানিয়ে টেনশন কমাতে পরামর্শ দেন।

পেশাগত জীবনে ল্যাপটপ কেনার মতো সামান্য স্বপ্নও পূরণ হয়নি তার। অফিসের আর্থিক অনিয়ম ও সিনিয়রদের অসহযোগিতার কারণে প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন তিনি। এক ঈদে বিলু ভাইয়ের বিলের সঙ্গে তার বিল পাঠানোয় তিনি সব টাকা একসঙ্গে পাননি, ফলে স্বপ্নের ল্যাপটপটিও কেনা হয়নি। কাজের পরিধি বাড়াতে এক পর্যায়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। কিন্তু রাজধানীতে এসে সাংবাদিকতার ভিন্ন চিত্র দেখেন তিনি। সেখানে দক্ষতা বা যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ক্ষমতার প্রভাবই বেশি প্রাধান্য পায়। তার অভিজ্ঞতায়, ঢাকার সাংবাদিকতায় সম্পাদকেরা সরকারের তোষামোদকারী হিসেবে কাজ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষের চেয়ে অর্থ ও ক্ষমতাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মন্ত্রী, এমপি ও আমলাদের ঝলসানো আলোয় মাঝারি ও প্রান্তিক সাংবাদিকদের বিষণ্ণতায় ভরা গল্পগুলো চাপা পড়ে যায়।

(চলবে) (সুইসাইড নোটের জীবন: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh