রাজনীতিতে যতিচিহ্ন নেই, কী ভবিষ্যৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতিতে যতিচিহ্ন নেই—এই প্রবাদটি প্রায়শই শোনা যায়। চলতি বছরের ১৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও রাজ্যসভার ৫৯ জন সদস্যের বিদায়লগ্নে এই আপ্তবাক্যটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। আজ যা অসম্ভব মনে হয়, কাল তা দাবানল হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে, যে নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ বলে মনে হয়, তিনিও ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও এখন এমন এক সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের রাজ্য নেতৃত্ব মমতাকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থা কিছুটা সর্বস্বান্ত, কারণ তাঁর নিজের হাতে গড়া দল ও প্রতীকের ওপর নিয়ন্ত্রণ এখন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে মমতা ও তাঁর বিক্ষুব্ধ নেতারা আপাতত 'তৃণমূল কংগ্রেস' নাম বা 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক ব্যবহারের অধিকারী নন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনেও এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কৌশলে মমতার প্রার্থীকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে, আর রেজিনগরে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবিরের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে সেখানে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এক সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মমতা আজ কংগ্রেসের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ পাঁচ মাস আগে বিজেপিবিরোধী জোটের প্রতি তাঁর অবস্থান আরও আন্তরিক হলে হয়তো বিজেপির এই উত্থান ঠেকানো সম্ভব হতো।
পরিসংখ্যান বলছে, বিজেপির ভোট বাড়লেও তৃণমূলের ভোট ৪১ শতাংশের নিচে নামেনি। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সাবেক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি এটিকে '১০০ শতাংশ স্ক্যাম' হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৬.২৫ শতাংশ ভোট পেলেও তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএমের সম্মিলিত ভোট ৪৮.৬৪ শতাংশ, যা অন্যান্য বাম দলের ভোট যোগ করলে ৫০.৭২ শতাংশে পৌঁছায়। অর্থাৎ, ভোট ভাগাভাগি না হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
এখন প্রশ্ন হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মায়াবতীর মতো অপাঙ্ক্তেয় হয়ে পড়বেন, নাকি ইন্দিরা গান্ধীর মতো ছাই থেকে জেগে উঠবেন? ৭১ বছর বয়সী মমতার রাজনৈতিক গোধূলিবেলায় চ্যালেঞ্জ অনেক। ইন্দিরা গান্ধী ৫০ বছর বয়সে নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন, আর মমতা এখন এমন এক বয়সে দাঁড়িয়ে যেখানে তাঁর দলের কান্ডারিরাই তাঁকে ত্যাগ করেছেন। কংগ্রেসের ভেতরেও মমতাকে নিয়ে দ্বিধা রয়েছে, কারণ অনেকে মনে করেন তাঁকে দলে নেওয়া মানে তাঁর সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার নেওয়া। তবে শেষ পর্যন্ত বিজেপিবিরোধী জোটের সঙ্গী হওয়া ছাড়া মমতার সামনে বিকল্পও সীমিত।




























