বাগেরহাটে শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের মধ্যপাড়া থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির পরিবার ও স্বজনরা জানায়, শনিবার বিকেল পাঁচটার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত পৌনে আটটার দিকে মধ্যপাড়ার একটি পানের বরজের পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় তার গলাকাটা লাশ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ সময় লাশের পাশে একটি পানির বোতল পাওয়া গেছে।
শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ি ও পানের বরজে হামলা চালান। এ সময় জাহাঙ্গীরের অন্তত দুটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা হাঁস-মুরগিসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। রাত ১১টা পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি। মোল্লাহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার শরিফ আমিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হওয়ায় পুলিশের সহায়তা ছাড়া তারা ঘটনাস্থলে প্রবেশ করা নিরাপদ মনে করেননি।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন জানান, শিশু খুনের ঘটনার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সাথে জড়িতদের নিশ্চিত হতে পারেনি, তবে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।



























