ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ কৃষকরাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদপুরে জমি দখলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী আলোকঝাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের মৃত্যুতে হুইপের শোক চট্টগ্রাম আদালতে নারীকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: কূটনীতিই একমাত্র সমাধানের পথ, দাবি তেহরানের দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ: ৬৫ থেকে ২১০ টাকা

প্রতিবাদ ও ‘আগের ১৪ বছর’ বিতর্ক: একটি সামাজিক বিশ্লেষণ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অন্যায়, অনাচার বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার হলেই একদল মানুষের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট বা প্রশ্ন শোনা যায়—"আগের ১৪ বছর প্রতিবাদ করেননি কেন?" এই প্রশ্নকর্তাদের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করলে একটি অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রবাসে বসে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছেন অথবা তারা নির্দিষ্ট কোনো মতাদর্শের অন্ধ অনুসারী, যাদের কাছে দেশের মানুষের দুর্ভোগের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই কমন কমেন্ট বা প্রশ্নটি মূলত একটি সুকৌশলী 'হোয়াটএবাউটিজম' (Whataboutism)। যখন কেউ বর্তমানের কোনো অন্যায়ের যৌক্তিক জবাব দিতে পারে না, তখন সে অতীতকে টেনে এনে বর্তমানের অপরাধকে আড়াল বা বৈধ করার চেষ্টা করে। এটি মূলত নিজেদের ব্যর্থতা বা প্রিয় দলের অপকর্ম ঢাকার একটি সস্তা ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই ধরনের মানসিকতা অন্যায়ের স্বাভাবিকীকরণের পথ প্রশস্ত করে। তাদের যুক্তির সারমর্ম অনেকটা এরকম যে, অতীতে অন্যায় হয়েছে বলেই এখনো অন্যায় হলে মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। এরা সমাজ সংস্কারক নয়, বরং চায় অন্যায়ের একচেটিয়া ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এছাড়া, এই প্রবণতা ভুক্তভোগীদের সাথে চরম নির্মমতা প্রদর্শন করে। সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি বা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার শিকার ভুক্তভোগী যখন ফেসবুকে পোস্ট দেন, তখন তিনি আমাদেরই আত্মীয় বা বন্ধু। কিন্তু এই দলকানা মানসিকতার মানুষগুলো সেই আর্তনাদকে রাজনৈতিক রং দিতে দ্বিধা করে না।

প্রবাসে থাকা বা অন্ধ মোহে বুঁদ হওয়া এই গোষ্ঠীটির মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী হওয়া। সমাজ যতক্ষণ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অতীতে আটকে থাকবে, ততক্ষণ বর্তমানের অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। অন্যায়ের কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ (Expiry Date) হয় না। অতীত অন্যায় ছিল বলেই বর্তমানের অন্যায় মেনে নিতে হবে—এই দাসত্ব মানসিকতা থেকে বের হতে না পারলে সমাজ কখনোই বদলাবে না। প্রতিবাদ যেকোনো সময়ে, যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রতিবাদ ও ‘আগের ১৪ বছর’ বিতর্ক: একটি সামাজিক বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অন্যায়, অনাচার বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার হলেই একদল মানুষের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট বা প্রশ্ন শোনা যায়—"আগের ১৪ বছর প্রতিবাদ করেননি কেন?" এই প্রশ্নকর্তাদের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করলে একটি অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রবাসে বসে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছেন অথবা তারা নির্দিষ্ট কোনো মতাদর্শের অন্ধ অনুসারী, যাদের কাছে দেশের মানুষের দুর্ভোগের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই কমন কমেন্ট বা প্রশ্নটি মূলত একটি সুকৌশলী 'হোয়াটএবাউটিজম' (Whataboutism)। যখন কেউ বর্তমানের কোনো অন্যায়ের যৌক্তিক জবাব দিতে পারে না, তখন সে অতীতকে টেনে এনে বর্তমানের অপরাধকে আড়াল বা বৈধ করার চেষ্টা করে। এটি মূলত নিজেদের ব্যর্থতা বা প্রিয় দলের অপকর্ম ঢাকার একটি সস্তা ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই ধরনের মানসিকতা অন্যায়ের স্বাভাবিকীকরণের পথ প্রশস্ত করে। তাদের যুক্তির সারমর্ম অনেকটা এরকম যে, অতীতে অন্যায় হয়েছে বলেই এখনো অন্যায় হলে মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। এরা সমাজ সংস্কারক নয়, বরং চায় অন্যায়ের একচেটিয়া ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এছাড়া, এই প্রবণতা ভুক্তভোগীদের সাথে চরম নির্মমতা প্রদর্শন করে। সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি বা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার শিকার ভুক্তভোগী যখন ফেসবুকে পোস্ট দেন, তখন তিনি আমাদেরই আত্মীয় বা বন্ধু। কিন্তু এই দলকানা মানসিকতার মানুষগুলো সেই আর্তনাদকে রাজনৈতিক রং দিতে দ্বিধা করে না।

প্রবাসে থাকা বা অন্ধ মোহে বুঁদ হওয়া এই গোষ্ঠীটির মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী হওয়া। সমাজ যতক্ষণ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অতীতে আটকে থাকবে, ততক্ষণ বর্তমানের অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। অন্যায়ের কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ (Expiry Date) হয় না। অতীত অন্যায় ছিল বলেই বর্তমানের অন্যায় মেনে নিতে হবে—এই দাসত্ব মানসিকতা থেকে বের হতে না পারলে সমাজ কখনোই বদলাবে না। প্রতিবাদ যেকোনো সময়ে, যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh