ঢাকায় ফলের আকাশচুম্বী দাম, নাগালের বাইরে মাল্টা-ডাব
- আপডেট সময় : ০১:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ধানমন্ডি ১৫ নম্বর এলাকার ফুটপাতে ফল কিনতে গিয়ে আকাশচুম্বী দামের মুখোমুখি হয়েছেন ক্রেতারা। ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বজনের জন্য মাল্টা কিনতে গিয়ে মো. জাহাঙ্গীর দেখেন, প্রতি কেজি মাল্টার দাম চাওয়া হচ্ছে ৪৫০ টাকা। বড় আকারের পাঁচটি মাল্টা কিনলে প্রতিটির দাম পড়ছে ১০০ টাকা। ক্রেতাদের মতে, ফলের এই দাম সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু মাল্টা নয়, অন্যান্য ফলের দামও চড়া। কমলা প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, আপেল ৩৮০ থেকে ৫২০ টাকা এবং আঙুর ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালিম ও বেদানার দাম আকার ও মানভেদে ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। দেশীয় ফলের বাজারেও চিত্র একই; ভালো মানের পাকা পেঁপে ১২০ টাকা কেজি এবং মাঝারি আকারের একটি পেঁপে কিনতে ১৫০ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকরা মাল্টা, কমলা ও ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় বাজারে চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে রাজধানীর ফুটপাত ও বাজারে প্রতিটি ডাব আকারভেদে ১৫০, ১৮০ ও ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭২ জন। ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোবেদ আমিনের মতে, জ্বরের কারণে শরীর থেকে ফ্লুইড ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ায় রোগীদের ডাবের পানি বা ফলের রস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ফলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে উচ্চ শুল্ক ও ডলার-সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে ফল আমদানিতে মোট শুল্ক-কর ১২২ শতাংশ। এছাড়া ২০২২ সালে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৬ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১২৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজস্বের জন্য এত উচ্চ শুল্ক গ্রহণযোগ্য নয়, বরং এটি অসাধু কর্মকর্তাদের পকেট ভারী করার সুযোগ তৈরি করে। তিনি ফল খাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে সরকারকে দাম কমানোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত মাসে ফল আমদানির এলসিতে শতভাগ মার্জিনের নিয়ম তুলে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আমদানির পরিমাণ কম নয়; গত জুলাইয়ে ২৩ হাজার ৭১৭ টন, আগস্টে ৪১ হাজার ১৮৬ টন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে ২৩ হাজার ৫৩৬ টন ফল আমদানি হয়েছে। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সালে মাথাপিছু ফল গ্রহণ বেড়ে ৯৫.৪ গ্রামে দাঁড়ালেও বর্তমান উচ্চমূল্যের কারণে তা কমেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।
দেশীয় ফলের দামও কম নয়।বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৪৮০ টাকা।
তবে দাম চড়া।.বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১০ অনুযায়ী, ওই সময় দেশে মাথাপিছু ফল গ্রহণ ছিল গড়ে ৪৫ গ্রাম।























