ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নোয়াখালীর সেনবাগে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে মোহামেডান ও কিংসের জয়যাত্রা অব্যাহত বিএনপির অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বের খোঁজে হাইকমান্ড রাজবাড়ীতে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার, মিলছে না যোগ্যতার কাজ সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ভুয়া নামে কারাগারে ৪ জেলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি সৌদি বিমানবন্দরে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, আটকা সাড়ে ১৬ হাজার যাত্রী তরুণদের বিক্ষোভে মোদির ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা টিআইবি: ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার

মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ডিবি হারুনের বন্দিশালা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজী হককে গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে রাজধানীর একটি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়েছিল। কেবল বন্দি করাই নয়, তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই বন্দিশালাটি নিয়ে এখন নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে, যখন আদম তমিজী হক ফেসবুক লাইভে তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করেন। এরপরই ‘ডিবি হারুন’ তার পিছু নেন এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠানোর কথা থাকলেও, হারুন ও তার দলবল তাকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখে এবং পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকদলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তমিজী হককে পরীক্ষা করে তাকে মানসিক রোগী মনে হয়নি। চিকিৎসকদের আদালতের আদেশ নিয়ে আসতে বলা হলে ডিবি হারুন ক্ষিপ্ত হন এবং বীকন পয়েন্টের কিছু কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তাকে সেখানে বন্দি রাখা হয়। ঘটনার গোপনীয়তা রক্ষায় নিরাময়কেন্দ্রের একটি ফ্লোর খালি করে সেখানে তমিজীর জন্য বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নারকোটিক্সের এক উপপরিচালকের মতে, তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়টি জানা থাকলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হারুনের ঘনিষ্ঠতার কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। হারুনের প্রতিটি বেআইনি কর্মকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে বলে ধারণা করা হতো।

নিরাময়কেন্দ্রটির অনিয়ম কেবল তমিজী হকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সেখানে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তবে সামাজিক মর্যাদার ভয়ে পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর লাশ লুকিয়ে রাখার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে, যা বরাবরই আড়ালে থেকে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ডিবি হারুনের বন্দিশালা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৩:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজী হককে গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে রাজধানীর একটি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়েছিল। কেবল বন্দি করাই নয়, তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই বন্দিশালাটি নিয়ে এখন নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে, যখন আদম তমিজী হক ফেসবুক লাইভে তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করেন। এরপরই ‘ডিবি হারুন’ তার পিছু নেন এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠানোর কথা থাকলেও, হারুন ও তার দলবল তাকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখে এবং পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকদলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তমিজী হককে পরীক্ষা করে তাকে মানসিক রোগী মনে হয়নি। চিকিৎসকদের আদালতের আদেশ নিয়ে আসতে বলা হলে ডিবি হারুন ক্ষিপ্ত হন এবং বীকন পয়েন্টের কিছু কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তাকে সেখানে বন্দি রাখা হয়। ঘটনার গোপনীয়তা রক্ষায় নিরাময়কেন্দ্রের একটি ফ্লোর খালি করে সেখানে তমিজীর জন্য বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নারকোটিক্সের এক উপপরিচালকের মতে, তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়টি জানা থাকলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হারুনের ঘনিষ্ঠতার কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। হারুনের প্রতিটি বেআইনি কর্মকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে বলে ধারণা করা হতো।

নিরাময়কেন্দ্রটির অনিয়ম কেবল তমিজী হকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সেখানে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তবে সামাজিক মর্যাদার ভয়ে পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর লাশ লুকিয়ে রাখার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে, যা বরাবরই আড়ালে থেকে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor