ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শামলিতে জিম থেকে বের হতেই গুলি, ২৫ সেকেন্ডে শেষ গায়কের জীবন ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৯১ জন গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ নেপাল সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসের নতুন ঝুঁকি, উদ্ধার অভিযান স্থগিত চীনের আগামী ৫ দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমবে গরম আশুলিয়ায় পত্রিকার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল কনডম তৈরির কারখানায় অভিযান সেপ্টেম্বরে নয়, জানুয়ারিতে হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নরওয়ের রাজা হারাল্ড নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা? গোয়াইনঘাটে ২৬ কোটির মহাসড়ক নির্মাণে বাধা ৯০ গাছ

মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ডিবি হারুনের বন্দিশালা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজী হককে গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে রাজধানীর একটি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়েছিল। কেবল বন্দি করাই নয়, তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই বন্দিশালাটি নিয়ে এখন নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে, যখন আদম তমিজী হক ফেসবুক লাইভে তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করেন। এরপরই ‘ডিবি হারুন’ তার পিছু নেন এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠানোর কথা থাকলেও, হারুন ও তার দলবল তাকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখে এবং পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকদলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তমিজী হককে পরীক্ষা করে তাকে মানসিক রোগী মনে হয়নি। চিকিৎসকদের আদালতের আদেশ নিয়ে আসতে বলা হলে ডিবি হারুন ক্ষিপ্ত হন এবং বীকন পয়েন্টের কিছু কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তাকে সেখানে বন্দি রাখা হয়। ঘটনার গোপনীয়তা রক্ষায় নিরাময়কেন্দ্রের একটি ফ্লোর খালি করে সেখানে তমিজীর জন্য বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নারকোটিক্সের এক উপপরিচালকের মতে, তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়টি জানা থাকলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হারুনের ঘনিষ্ঠতার কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। হারুনের প্রতিটি বেআইনি কর্মকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে বলে ধারণা করা হতো।

নিরাময়কেন্দ্রটির অনিয়ম কেবল তমিজী হকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সেখানে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তবে সামাজিক মর্যাদার ভয়ে পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর লাশ লুকিয়ে রাখার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে, যা বরাবরই আড়ালে থেকে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ডিবি হারুনের বন্দিশালা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৩:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজী হককে গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে রাজধানীর একটি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়েছিল। কেবল বন্দি করাই নয়, তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই বন্দিশালাটি নিয়ে এখন নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে, যখন আদম তমিজী হক ফেসবুক লাইভে তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করেন। এরপরই ‘ডিবি হারুন’ তার পিছু নেন এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠানোর কথা থাকলেও, হারুন ও তার দলবল তাকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখে এবং পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকদলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তমিজী হককে পরীক্ষা করে তাকে মানসিক রোগী মনে হয়নি। চিকিৎসকদের আদালতের আদেশ নিয়ে আসতে বলা হলে ডিবি হারুন ক্ষিপ্ত হন এবং বীকন পয়েন্টের কিছু কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তাকে সেখানে বন্দি রাখা হয়। ঘটনার গোপনীয়তা রক্ষায় নিরাময়কেন্দ্রের একটি ফ্লোর খালি করে সেখানে তমিজীর জন্য বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নারকোটিক্সের এক উপপরিচালকের মতে, তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়টি জানা থাকলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হারুনের ঘনিষ্ঠতার কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। হারুনের প্রতিটি বেআইনি কর্মকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে বলে ধারণা করা হতো।

নিরাময়কেন্দ্রটির অনিয়ম কেবল তমিজী হকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সেখানে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তবে সামাজিক মর্যাদার ভয়ে পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর লাশ লুকিয়ে রাখার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে, যা বরাবরই আড়ালে থেকে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor