ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা: চীন-ভারতের নতুন ভূরাজনৈতিক রণক্ষেত্র সবজির দাম কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ভারতীয় আটক প্রযুক্তির যুগে দাওয়াহর সম্ভাবনা ও দাঈদের নিয়ত রক্ষার চ্যালেঞ্জ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়: চট্টগ্রামে চরম উৎকণ্ঠায় নেপালি শিক্ষার্থীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের পর চট্টগ্রামে বসে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) নেপালি শিক্ষার্থীরা। দুর্যোগের পর থেকে অনেকেরই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের খোঁজ মিলছে না। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তারা থাপা মাগারের তিন স্বজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বেঁচে থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২০ বছর বয়সী তারা থাপা মাগারের বাড়ি নেপালের রামেছাপ জেলার খাঁড়া দেবী পৌরসভায়। তিনি জানান, বিপর্যয়ের আগে তাঁর তিন স্বজন একটি জেলায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। বন্যার পর থেকে তাঁদের ফোন বন্ধ এবং কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা বলেন, ‘আমার তিন স্বজন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, কিছুই জানি না। দেশ থেকে এত দূরে বসে শুধু অপেক্ষা করছি। এর চেয়ে অসহায় সময় আর কী হতে পারে।’ তাঁর নিজের এলাকা এখন পর্যন্ত নিরাপদ থাকলেও নিখোঁজ স্বজনদের নিয়ে তাঁর উৎকণ্ঠার শেষ নেই।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা রোকাও নিজ দেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। সুস্মিতার বাড়ি নেপালের তানাহুনে এবং তাঁর মা-বাবা কাঠমান্ডুতে নিরাপদে আছেন। তবে তাঁর এক প্রতিবেশী সেনা কর্মকর্তা বন্যার কবলে পড়েছেন এবং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মামা, যিনি রাসুয়ায় কর্মরত ছিলেন, দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ। সুস্মিতা জানান, উজানের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ভেসে আসা মরদেহ তানাহুনের ত্রিশূলী নদীতে পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ললিতপুরের বাসিন্দা ও পাবলিক হেলথ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিতা তিমালসিনা জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও তাঁকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ২২ বছর বয়সী অনিতা বলেন, তাঁর মন নেপালে পড়ে আছে এবং কোনো কাজেই তিনি মন বসাতে পারছেন না। দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, কাপড় ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

নেপালে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৬৫ জন আমেরিকান এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিকসহ বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও কৈলাস-মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী রয়েছেন। তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ, পাথর ও মাটির বড় ধস নদীতে পড়ার পর ভোতেকোশি অববাহিকায় কাদা-পাথরের প্রবল ঢল নামে। এই ঢল ভাটিতে ত্রিশূলী নদী হয়ে নেমে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহের সামনের অংশ ভেঙে পড়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে বর্তমানে নেপালের ৪০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁরা দূর থেকেই নিজ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। ‘উইমেন নেপালি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে নেপাল দূতাবাসের সমন্বয়ে তাঁরা দেশটির সরকারি অনুদানের অনলাইন লিংক ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়: চট্টগ্রামে চরম উৎকণ্ঠায় নেপালি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের পর চট্টগ্রামে বসে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) নেপালি শিক্ষার্থীরা। দুর্যোগের পর থেকে অনেকেরই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের খোঁজ মিলছে না। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তারা থাপা মাগারের তিন স্বজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বেঁচে থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২০ বছর বয়সী তারা থাপা মাগারের বাড়ি নেপালের রামেছাপ জেলার খাঁড়া দেবী পৌরসভায়। তিনি জানান, বিপর্যয়ের আগে তাঁর তিন স্বজন একটি জেলায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। বন্যার পর থেকে তাঁদের ফোন বন্ধ এবং কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা বলেন, ‘আমার তিন স্বজন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, কিছুই জানি না। দেশ থেকে এত দূরে বসে শুধু অপেক্ষা করছি। এর চেয়ে অসহায় সময় আর কী হতে পারে।’ তাঁর নিজের এলাকা এখন পর্যন্ত নিরাপদ থাকলেও নিখোঁজ স্বজনদের নিয়ে তাঁর উৎকণ্ঠার শেষ নেই।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা রোকাও নিজ দেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। সুস্মিতার বাড়ি নেপালের তানাহুনে এবং তাঁর মা-বাবা কাঠমান্ডুতে নিরাপদে আছেন। তবে তাঁর এক প্রতিবেশী সেনা কর্মকর্তা বন্যার কবলে পড়েছেন এবং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মামা, যিনি রাসুয়ায় কর্মরত ছিলেন, দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ। সুস্মিতা জানান, উজানের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ভেসে আসা মরদেহ তানাহুনের ত্রিশূলী নদীতে পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ললিতপুরের বাসিন্দা ও পাবলিক হেলথ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিতা তিমালসিনা জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও তাঁকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ২২ বছর বয়সী অনিতা বলেন, তাঁর মন নেপালে পড়ে আছে এবং কোনো কাজেই তিনি মন বসাতে পারছেন না। দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, কাপড় ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

নেপালে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৬৫ জন আমেরিকান এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিকসহ বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও কৈলাস-মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী রয়েছেন। তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ, পাথর ও মাটির বড় ধস নদীতে পড়ার পর ভোতেকোশি অববাহিকায় কাদা-পাথরের প্রবল ঢল নামে। এই ঢল ভাটিতে ত্রিশূলী নদী হয়ে নেমে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহের সামনের অংশ ভেঙে পড়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে বর্তমানে নেপালের ৪০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁরা দূর থেকেই নিজ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। ‘উইমেন নেপালি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে নেপাল দূতাবাসের সমন্বয়ে তাঁরা দেশটির সরকারি অনুদানের অনলাইন লিংক ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo