প্রতি দুজনের নমুনায় একজন হামে আক্রান্ত

- আপডেট সময় : ০৮:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত ‘ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরি’তে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৪৬১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৪৬ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি দুজনের নমুনা পরীক্ষায় অন্তত একজন হামের রোগী শনাক্ত হচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই ল্যাবরেটরিটিতে রক্ত ও সোয়াবের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং সংস্থাটি কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। সরকারি এই ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পুরো সময়ে প্রায় ছয় হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১৩২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ থেকে গত শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই সময়ে ল্যাবরেটরিতে ১৭ হাজার ৪০ জন হামে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া হাম ও এর উপসর্গে এ বছর মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু এবং তাদের বড় একটি অংশ টিকা পায়নি।
ল্যাবরেটরির প্রধান খন্দকার মাহবুবা জামিল জানান, গত বছর ডিসেম্বরের দিকে শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। এরপর জানুয়ারিতে শনাক্তের হার ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণ এবং ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণে পৌঁছায়। এই তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে।
বর্তমানে সরকারি ল্যাবরেটরিতে বিনামূল্যে পরীক্ষা হলেও, আইসিডিডিআরবি মূলত গবেষণার প্রয়োজনে হামের পরীক্ষা করে থাকে। এছাড়া সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও ফি দিয়ে হামের পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।



























