পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ড: রহস্য ও ধোঁয়াশা
- আপডেট সময় : ০৬:১২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বারিধারার গুলশান নর্থ এভিনিউয়ের ৭১ নম্বর রোডে (বীরবিক্রম আমীন আহম্মদ চৌধুরী সড়ক) অবস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাঈমা ইমরান। বর্তমানে তারা গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দ্বিতীয়তলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বারিধারা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার সজীব জানান, খবর পেয়ে তাদের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, মূলত হাইকমিশনারের শোবার ঘরের পাশের ড্রয়িংরুমে আগুন লেগেছিল। সেখানে থাকা এসি, টেলিভিশনসহ অন্যান্য আসবাবপত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মতে, আগুন খুব বেশি বড় ছিল না এবং বালতি ও মগের পানি দিয়েই তা নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে রুমের জানালা বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া জমেছিল, যা পরে ভেন্টিলেশন ও মেশিনের সাহায্যে বের করে দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের বারিধারা ইউনিটের মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং সেখানে কেরোসিন বা পেট্রোলের মতো কোনো দাহ্য পদার্থ পাওয়া যায়নি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কূটনৈতিক পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আগুন লাগল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেউ কেউ নারীঘটিত কোনো ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এছাড়া প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো দূতাবাসে আগুন লাগলে বা রাষ্ট্রদূত অসুস্থ হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও, ভোররাত ৪টায় লাগা আগুনের প্রায় ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও দূতাবাস থেকে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।
গতকাল সরজমিন পাকিস্তান হাইকমিশনে গিয়ে দেখা যায়, দূতাবাসটির চারপাশেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। গুলশান নর্থ এভিনিউয়ের মূল সড়কে পুলিশ চেকপোস্ট এবং দূতাবাসের প্রধান গেটের সামনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। দূতাবাসের পকেট গেটে দায়িত্বরত উর্দুভাষী পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী জানান, হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী ভালো আছেন, তবে আগুন কীভাবে লেগেছে সে সম্পর্কে তারা কিছু বলতে রাজি হননি। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মুরাদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শরীরে কোনো পোড়া ক্ষত নেই, তবে ধোঁয়ায় অসুস্থ হওয়ায় তাদের আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দূতাবাসের নিজস্ব কর্মকর্তারা বর্তমানে তাদের চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন।

























