পূর্বাচলে জনপ্রিয় হাঁসের মাংসের দোকানে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্বাচলের হাঁসের মাংসের রাজত্ব এখন ভোজনরসিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ভিড় করছেন। তবে জনপ্রিয় এই খাবারের দোকানগুলো নিয়ে এখন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাস্তার ধারে খোলা পরিবেশে রান্নাবান্না, ধুলোবালির মধ্যে খাবার পরিবেশন এবং অস্বাস্থ্যকর প্রস্তুতপ্রণালির কারণে এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মূল সড়কের পাশেই বড় বড় পাতিল ও কড়াই বসিয়ে হাঁস, গরু, মুরগি ও মাছের রান্না চলছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খাবারগুলো রাখা হচ্ছে উন্মুক্ত অবস্থায়। যানবাহন চলাচলের কারণে বাতাসে উড়া ধুলোবালি সরাসরি খাবারে মিশছে। এছাড়া হাঁস প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে আগুনে পোড়ানো বা দীর্ঘসময় গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখার পদ্ধতি নিয়েও পুষ্টিবিদ ও সচেতন দর্শনার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজধানীর বাড্ডা থেকে আসা মাহাবুব হাসান জানান, পূর্বাচলের মনোরম পরিবেশের টানে তারা এখানে আসেন, কিন্তু পরিবেশন করা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা যাচাইয়ের সুযোগ নেই। সৈকত আলী নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত ঝাল এবং খোলা পরিবেশে ধুলোবালির কারণে সুন্দর মুহূর্তের মধ্যেও এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করে। অনেক ক্রেতা মাংস দীর্ঘসময় গরম পানিতে ফেলে রাখা, বাসি খাবার বারবার গরম করা এবং অতিরিক্ত মসলা, কৃত্রিম রঙ ও টেস্টিং সল্ট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 'নিউ সকাল-সন্ধ্যা রেস্টুরেন্ট'-এর মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, তারা কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন না, বরং দেশি হাঁস ও নিজস্ব মসলায় প্রতিদিনের খাবার সেদিনই রান্না করেন। 'পি কে হাউজ রেস্টুরেন্ট'-এর ব্যবস্থাপকও একই কথা জানিয়ে বলেন, তারা প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহার করেন এবং হাঁস পরিষ্কারের সময় গ্যাসের আগুনে হালকা আঁচ দেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাতিন জানান, তারা নিয়মিত পরিদর্শন করেন এবং ত্রুটি পেলে খাবার ধ্বংসসহ সতর্ক করেন, তবে বিশাল এলাকায় কার্যকর নজরদারির জন্য জনবল ও নিরাপত্তা কর্মীর সংকট রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের বলেন, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পূর্বাচল জনপ্রিয় হলেও কিছু রেস্তোরাঁর খাবারের মান উদ্বেগজনক। তিনি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। ভোজনরসিকরাও খাবার ঢেকে রাখা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।





























