হাসিনার রাজনীতি করার সুযোগ নেই, কক্সবাজারে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

- আপডেট সময় : ০৪:৫১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। শুক্রবার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।” তিনি আরও বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই এবং তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে বা চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে, তবে সরকার এসব বিষয়কে আর গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-০১ উদ্বোধন করেন। ওই সময় তিনি কেবল ইট-পাথরের ইমারত ও অবকাঠামো নির্মাণের দিকে মনোযোগ না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। তিনি মনে করেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পুরো একশ কিলোমিটার জুড়েই পর্যটনবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত এবং বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ইচ্ছামতো বিভিন্ন এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করার বিষয়টি জরিপকাজ পরিচালনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
কক্সবাজারের টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলা অপহরণের মতো অপরাধ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন এবং সরকারি পর্যায় থেকেও সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ জানানো হবে। এতে অপহরণের মতো ঘৃণ্য অপরাধগুলো কার্যকরভাবে দমন করা বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুল হক উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ১৬আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ১৯



























