ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সিঙ্গাপুরের ম্যাকরিচি রিজার্ভারে বিরল বিষধর ও বিষাক্ত সাপের দেখা আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় চলছে পলাতক আসাদুজ্জামান খান কামালের সংসার না ফেরার দেশে লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি সাভারে বিএনপি নেতার বাড়িতে কাফনের কাপড় ও গুলি উদ্ধার লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ বাড়ছে, বিটিভিতে ফরেনসিক অডিট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ফ্যামিলি ডে-২০২৬: পদ্মার তীরে আনন্দঘন আয়োজন স্বৈরাচার ও রাজাকারদের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না: সালাউদ্দিন টুকু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে টড ব্লাঞ্চের অনুমোদন

ফুলবাড়ী-সান্তাহার রেলপথে শত শত স্লিপার ভাঙা, ঝুঁকিতে ২৪টি ট্রেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন অংশে শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যাওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ট্রেন চলাচল। রেললাইনের প্যান্ড্রল ক্লিপ না থাকা, নড়বড়ে জোড়াতালি এবং ট্রেনের চাপে লাইন বিপজ্জনকভাবে ওঠানামা করার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনেও রেলপথটি সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

এই রেলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কতটা তীব্র, তা স্পষ্ট হয় গত ২৩ মার্চের একটি ঘটনায়। ওই দিন সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটার এলাকার মাঝামাঝি স্থানে একটি কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যায়। স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী কৃষক এনামুল হক বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কলার মোচার লাল পাতা দেখিয়ে ঢাকা অভিমুখী আন্তঃনগর 'পঞ্চগড় এক্সপ্রেস' ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তার এই তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পান ট্রেনের যাত্রীরা।

রেলপথের বিভিন্ন এলাকার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোবারকপুর রেলগেট এলাকার মুদি দোকানি হামিদুল হকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেললাইনের ৩৬৪/১ থেকে ৩৬৪/৪ কিলোমিটার এলাকার বহু স্থানে স্লিপার ভেঙে রড বেরিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় প্যান্ড্রল ক্লিপ খুলে যাওয়ায় ট্রেন যাওয়ার সময় রেললাইন ওঠানামা করে। এই ৭৭ কিলোমিটার রেলপথে দিনাজপুরের বিরামপুর ও হিলি (হাকিমপুর), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, বাগজানা, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ও জামালগঞ্জ স্টেশন রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলপথ দেখভালের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের জনবল সংকটের চিত্রও উদ্বেগজনক। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই সেকশনে অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এখানে কোনো উপসহকারী প্রকৌশলী কর্মরত নেই। প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে রেললাইন পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও কীম্যানের ১০টি পদই খালি পড়ে আছে। এছাড়া চারজন ট্রলিম্যানের জায়গায় আছেন মাত্র একজন, তিনজন নিরাপত্তাকর্মীর বিপরীতে আছেন একজন, দুইজন বেলোম্যানের দুটি পদই শূন্য এবং তিনজন হ্যামারম্যানের পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন।

ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী জানান, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন আপে ১২টি এবং ডাউনে ১২টিসহ মোট ২৪টি ট্রেন চলাচল করে। রেলপথের ৩৬৫/৪ থেকে ৩৬৫/৫ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে ট্রেনের গতি কমিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল রেলওয়ের পার্বতীপুরের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউআই-পথ) শেখ আল আমিন এই নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে ওই অংশে ধীরগতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে।

তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথের স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর স্থায়ী মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এসব সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলবাড়ী-সান্তাহার রেলপথে শত শত স্লিপার ভাঙা, ঝুঁকিতে ২৪টি ট্রেন

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
print news

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন অংশে শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যাওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ট্রেন চলাচল। রেললাইনের প্যান্ড্রল ক্লিপ না থাকা, নড়বড়ে জোড়াতালি এবং ট্রেনের চাপে লাইন বিপজ্জনকভাবে ওঠানামা করার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনেও রেলপথটি সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

এই রেলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কতটা তীব্র, তা স্পষ্ট হয় গত ২৩ মার্চের একটি ঘটনায়। ওই দিন সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটার এলাকার মাঝামাঝি স্থানে একটি কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যায়। স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী কৃষক এনামুল হক বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কলার মোচার লাল পাতা দেখিয়ে ঢাকা অভিমুখী আন্তঃনগর 'পঞ্চগড় এক্সপ্রেস' ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তার এই তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পান ট্রেনের যাত্রীরা।

রেলপথের বিভিন্ন এলাকার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোবারকপুর রেলগেট এলাকার মুদি দোকানি হামিদুল হকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেললাইনের ৩৬৪/১ থেকে ৩৬৪/৪ কিলোমিটার এলাকার বহু স্থানে স্লিপার ভেঙে রড বেরিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় প্যান্ড্রল ক্লিপ খুলে যাওয়ায় ট্রেন যাওয়ার সময় রেললাইন ওঠানামা করে। এই ৭৭ কিলোমিটার রেলপথে দিনাজপুরের বিরামপুর ও হিলি (হাকিমপুর), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, বাগজানা, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ও জামালগঞ্জ স্টেশন রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলপথ দেখভালের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের জনবল সংকটের চিত্রও উদ্বেগজনক। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই সেকশনে অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এখানে কোনো উপসহকারী প্রকৌশলী কর্মরত নেই। প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে রেললাইন পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও কীম্যানের ১০টি পদই খালি পড়ে আছে। এছাড়া চারজন ট্রলিম্যানের জায়গায় আছেন মাত্র একজন, তিনজন নিরাপত্তাকর্মীর বিপরীতে আছেন একজন, দুইজন বেলোম্যানের দুটি পদই শূন্য এবং তিনজন হ্যামারম্যানের পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন।

ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী জানান, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন আপে ১২টি এবং ডাউনে ১২টিসহ মোট ২৪টি ট্রেন চলাচল করে। রেলপথের ৩৬৫/৪ থেকে ৩৬৫/৫ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে ট্রেনের গতি কমিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল রেলওয়ের পার্বতীপুরের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউআই-পথ) শেখ আল আমিন এই নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে ওই অংশে ধীরগতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে।

তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথের স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর স্থায়ী মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এসব সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh