ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সিঙ্গাপুরের ম্যাকরিচি রিজার্ভারে বিরল বিষধর ও বিষাক্ত সাপের দেখা আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় চলছে পলাতক আসাদুজ্জামান খান কামালের সংসার না ফেরার দেশে লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি সাভারে বিএনপি নেতার বাড়িতে কাফনের কাপড় ও গুলি উদ্ধার লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ বাড়ছে, বিটিভিতে ফরেনসিক অডিট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ফ্যামিলি ডে-২০২৬: পদ্মার তীরে আনন্দঘন আয়োজন স্বৈরাচার ও রাজাকারদের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না: সালাউদ্দিন টুকু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে টড ব্লাঞ্চের অনুমোদন

শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা: মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় বিচারক ব্রায়ান বিডশিড মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বা ‘পাবলিক নিউস্যান্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা।

আদালতের এই নতুন জরিমানার সাথে আগের রায়ে দেওয়া ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়ে এই মামলায় মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলারে। বিচারক বিডশিড নির্দেশ দিয়েছেন, মেটাকে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে, যা ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজে ব্যবহার করা হবে। রায়ে মেটাকে একটি কারখানার সাথে তুলনা করে বিচারক বলেন, মেটার পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর শিশুদের মানসিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণ হলো সেই কারখানার নির্গত দূষণ, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা আদালতের এই রায়ের সাথে তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছে। মেটার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাদের দাবি, প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিরাপদ রাখতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অপরাধীদের শনাক্ত ও অপসারণের ক্ষেত্রে তারা সর্বদা স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় নিজেদের ভূমিকা নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নিদের দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে এই আইনি প্রক্রিয়ার শুরু হয়। তাদের অভিযোগ ছিল, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের যৌন কনটেন্ট ও যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে এনে তাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিচারক বিডশিড উল্লেখ করেন, মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, তা কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বাস্তব জীবনেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবার, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর বড় ধরনের সামাজিক বোঝা তৈরি করছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মেটার গঠিত তহবিলের বড় অংশ শিশুদের ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকবে উপযুক্ত ক্লিনিক্যাল ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য। এছাড়া শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমেও এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

শিশুদের সুরক্ষায় আদালত মেটাকে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে: ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সুপারিশ না করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রাপ্তবয়স্কদের মেসেজ পাঠানোর সুযোগ বন্ধ করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নগ্ন ছবি আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা। এছাড়া শিশু যৌন শোষণে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ‘একবারেই আজীবন নিষেধাজ্ঞা’ নীতি চালু করতে হবে। একই সাথে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ‘লাইক’ সংখ্যা গোপন রাখা, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং স্কুল চলাকালীন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে) পুশ নোটিফিকেশন পাঠানো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের সময়সীমা মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই নয়, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করা এবং রাতের বেলায় কিশোরদের ব্যবহারের ওপর ‘কারফিউ’ জারির পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে বর্তমানে একই ধরনের হাজার হাজার মামলা চলছে। চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালত রায় দেন যে, ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলার মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য মেটাকে দায়ী করা যেতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা: মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
print news

শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় বিচারক ব্রায়ান বিডশিড মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বা ‘পাবলিক নিউস্যান্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা।

আদালতের এই নতুন জরিমানার সাথে আগের রায়ে দেওয়া ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়ে এই মামলায় মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলারে। বিচারক বিডশিড নির্দেশ দিয়েছেন, মেটাকে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে, যা ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজে ব্যবহার করা হবে। রায়ে মেটাকে একটি কারখানার সাথে তুলনা করে বিচারক বলেন, মেটার পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর শিশুদের মানসিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণ হলো সেই কারখানার নির্গত দূষণ, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা আদালতের এই রায়ের সাথে তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছে। মেটার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাদের দাবি, প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিরাপদ রাখতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অপরাধীদের শনাক্ত ও অপসারণের ক্ষেত্রে তারা সর্বদা স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় নিজেদের ভূমিকা নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নিদের দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে এই আইনি প্রক্রিয়ার শুরু হয়। তাদের অভিযোগ ছিল, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের যৌন কনটেন্ট ও যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে এনে তাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিচারক বিডশিড উল্লেখ করেন, মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, তা কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বাস্তব জীবনেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবার, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর বড় ধরনের সামাজিক বোঝা তৈরি করছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মেটার গঠিত তহবিলের বড় অংশ শিশুদের ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকবে উপযুক্ত ক্লিনিক্যাল ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য। এছাড়া শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমেও এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

শিশুদের সুরক্ষায় আদালত মেটাকে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে: ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সুপারিশ না করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রাপ্তবয়স্কদের মেসেজ পাঠানোর সুযোগ বন্ধ করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নগ্ন ছবি আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা। এছাড়া শিশু যৌন শোষণে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ‘একবারেই আজীবন নিষেধাজ্ঞা’ নীতি চালু করতে হবে। একই সাথে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ‘লাইক’ সংখ্যা গোপন রাখা, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং স্কুল চলাকালীন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে) পুশ নোটিফিকেশন পাঠানো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের সময়সীমা মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই নয়, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করা এবং রাতের বেলায় কিশোরদের ব্যবহারের ওপর ‘কারফিউ’ জারির পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে বর্তমানে একই ধরনের হাজার হাজার মামলা চলছে। চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালত রায় দেন যে, ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলার মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য মেটাকে দায়ী করা যেতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy