সাবেক প্রেমিকাকে উয়েফার অর্থ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেন ইনফান্তিনো

- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

উয়েফায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তাকে গোপনে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই দাবি তোলার পর ফিফার পক্ষ থেকে তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিবাহিত ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে উয়েফার সাবেক এক নারী কর্মীকে ছয় অংকের একটি প্রস্থানকালীন অর্থ বা সেভারেন্স পেমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইনফান্তিনো। এরপর ২০১৬ সালে তিনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ফিফার একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। অনৈতিক আচরণ বা নিয়ম লঙ্ঘনের যেকোনো ইঙ্গিতই মানহানিকর। এছাড়া উয়েফা বা ফিফায় কর্মরত কোনো কর্মী কখনোই ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে কোনো অভিযোগ তোলেননি, কারণ এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িতই ছিলেন না।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা উয়েফা এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, সংশ্লিষ্ট ওই কর্মীকে একটি প্রস্থানকালীন অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তবে তা দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের টিউশন ফি পরিশোধের জন্য। উয়েফার দাবি, তৎকালীন নিয়ম মেনেই এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত নিয়মনীতি আরও কঠোর করা হয়েছে。
বিশ্বকাপের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী এই ফিফা প্রধান। বিতর্কিত ওই প্রস্তাবের জন্য তিনি ক্ষমা চাইলেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। মরক্কোয় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমর্থন পেলেও এই নতুন বিতর্ক তার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
ফিফা প্রধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বর্তমানে তুমুল বিতর্ক চলছে। নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। তবে ইউরোপীয় দলগুলো ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিলেও দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল), আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ) এবং বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও রানার্সআপ আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন বজায় রেখেছে।



























