নিত্যপণ্যের চড়া দামে দিশেহারা নিম্নবিত্ত, সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ

- আপডেট সময় : ১২:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখী দামে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মাছ ও সবজিসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে গেলে আগের তুলনায় বেশি খরচ করতে হচ্ছে, কিন্তু আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রিকশাচালক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের উপার্জিত আয় দিয়ে বাসাভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং খাবারের খরচ মেটানো এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাধ্য হয়ে অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ধারদেনা করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে একের পর এক প্রয়োজনীয় পণ্য বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাজারগুলোতে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তি দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতল, মিগেল ও পোয়া মাছসহ বিভিন্ন চাষের মাছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বাজারে আকারভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিতে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
সবজির উচ্চমূল্যের পেছনে বিক্রেতারা টানা বৃষ্টি ও বন্যাকে দায়ী করছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞরা বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, খাদ্যপণ্যের চড়া দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এখনো বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


























