ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, পরবর্তী মুহূর্তের অনিশ্চয়তা নিয়ে ভাবুন ৭৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির নতুন রেডমি ১৭ স্মার্টফোন আনল শাওমি সরকারি বদলি ও পদায়নে এআই ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন উপদেষ্টা ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন, সুবিধা পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার ভিসা নিয়ে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান ভারতীয় হাইকমিশনের শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় সাকিবসহ ১৫ জনের নামে চার্জশিট শিগগির আওয়ামী লীগ শত্রু নয়, তারা আমাদের মিত্র: এমপি নাছির চৌধুরী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে লটারির মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তদন্ত সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টা: উত্তাল আন্দোলনের নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনটি যে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে, তা ২ আগস্ট পর্যন্ত অনেকের কাছেই অকল্পনীয় ছিল। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর আন্দোলনটি তীব্রতর হতে থাকে। জুলাইয়ের শেষ দিকে তা ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়লে সরকার হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।

১ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ২ আগস্ট দেশব্যাপী প্রার্থনা ও গণমিছিলের ডাক দেয়। ওইদিন ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পেশাজীবীদের বিশাল জমায়েত হয়। একই দিনে ইউনিসেফ কোটা আন্দোলনে অন্তত ৩২ শিশু নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। ২ আগস্ট আন্দোলনকারীরা জানায়, ডিবি কার্যালয়ে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ভিডিও রেকর্ড করানো হয়েছিল। তারা ৩ আগস্ট বিক্ষোভ এবং ৪ আগস্ট থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। ওইদিন সরকার মোবাইল নেটওয়ার্কে ফেসবুক ও টেলিগ্রাম বন্ধ রাখে। রাতে গণভবনে শেখ হাসিনা ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করার নির্দেশ দেন।

৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের ডাক দেয় এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে। সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ ছাড়াও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সেদিনই তারা ৬ আগস্টের 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি এগিয়ে ৫ আগস্ট ঘোষণা করেন। ওদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি পাঠান। ৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং সরকার ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়াসহ অনেকে সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি না করার আহ্বান জানান। সরকার সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করে।

৫ আগস্ট কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। ঢাকা ও এর আশপাশের পয়েন্ট দিয়ে জনস্রোত ঢাকায় প্রবেশ করতে থাকে। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনে সেনা সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়া দিলেও আন্দোলনকারীরা তা সরিয়ে এগিয়ে যায়। দুপুরের দিকে খবর আসে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং সামরিক বাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

পরিস্থিতি সামলাতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেল ৪টার দিকে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এর পরপরই আন্দোলনকারীরা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবন দখলে নেয়। রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। সরকারি হিসাবে এ সহিংসতায় ৮০০ জনের বেশি নিহত হলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৪০০ উল্লেখ করা হয়েছে। অবশেষে ১৭ দিন পর ৬ আগস্ট ভোর থেকে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টা: উত্তাল আন্দোলনের নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহ

আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
print news

২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনটি যে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে, তা ২ আগস্ট পর্যন্ত অনেকের কাছেই অকল্পনীয় ছিল। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর আন্দোলনটি তীব্রতর হতে থাকে। জুলাইয়ের শেষ দিকে তা ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়লে সরকার হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।

১ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ২ আগস্ট দেশব্যাপী প্রার্থনা ও গণমিছিলের ডাক দেয়। ওইদিন ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পেশাজীবীদের বিশাল জমায়েত হয়। একই দিনে ইউনিসেফ কোটা আন্দোলনে অন্তত ৩২ শিশু নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। ২ আগস্ট আন্দোলনকারীরা জানায়, ডিবি কার্যালয়ে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ভিডিও রেকর্ড করানো হয়েছিল। তারা ৩ আগস্ট বিক্ষোভ এবং ৪ আগস্ট থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। ওইদিন সরকার মোবাইল নেটওয়ার্কে ফেসবুক ও টেলিগ্রাম বন্ধ রাখে। রাতে গণভবনে শেখ হাসিনা ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করার নির্দেশ দেন।

৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের ডাক দেয় এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে। সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ ছাড়াও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সেদিনই তারা ৬ আগস্টের 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি এগিয়ে ৫ আগস্ট ঘোষণা করেন। ওদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি পাঠান। ৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং সরকার ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়াসহ অনেকে সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি না করার আহ্বান জানান। সরকার সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করে।

৫ আগস্ট কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। ঢাকা ও এর আশপাশের পয়েন্ট দিয়ে জনস্রোত ঢাকায় প্রবেশ করতে থাকে। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনে সেনা সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়া দিলেও আন্দোলনকারীরা তা সরিয়ে এগিয়ে যায়। দুপুরের দিকে খবর আসে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং সামরিক বাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

পরিস্থিতি সামলাতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেল ৪টার দিকে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এর পরপরই আন্দোলনকারীরা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবন দখলে নেয়। রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। সরকারি হিসাবে এ সহিংসতায় ৮০০ জনের বেশি নিহত হলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৪০০ উল্লেখ করা হয়েছে। অবশেষে ১৭ দিন পর ৬ আগস্ট ভোর থেকে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor