মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, পরবর্তী মুহূর্তের অনিশ্চয়তা নিয়ে ভাবুন
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সমাজে মানুষের অবস্থান যেখানেই থাকুক না কেন—কেউ হয়তো সততা ও আত্মসম্মান নিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করছেন, আবার কেউ হয়তো অঢেল অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রভাবের চূড়ায় অবস্থান করছেন—একটি প্রশ্ন সবার জন্যই প্রযোজ্য। কোনো মানুষই কি নিজেকে সব ধরনের বিপদ-আপদ, রোগ-ব্যাধি বা অপ্রত্যাশিত কঠিন পরীক্ষা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে পারেন? এই প্রশ্নের একমাত্র চিরন্তন উত্তর হলো ‘না’। মানুষ যতই শক্তিশালী বা বিত্তবান হোক না কেন, নিজের ভবিষ্যতের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আগামীকাল তো দূরের কথা, পরবর্তী এক মিনিটে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটিও মানুষের পক্ষে নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব।
বর্তমান সময়ে সিসিটিভি ক্যামেরার কল্যাণে আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের এই ক্ষণস্থায়ী রূপ দেখতে পাই। কেউ স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বলতে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন, কেউ কর্মস্থলে কাজ করার মাঝেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে কাটানো মুহূর্তের কয়েক সেকেন্ড পরেই বড় কোনো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এই দৃশ্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার দূরত্ব কতটা কম। মানুষ যদি নিজের পরিণতির সামান্য আভাসও পেত বা জানতে পারত যে আর মাত্র এক ঘণ্টা পর তার জীবন শেষ হয়ে যাবে, তবে হয়তো পৃথিবীতে অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি, ঘুষ, মিথ্যা, অহংকার ও প্রতারণার মতো অপরাধগুলো অনেক কমে যেত। কারণ মৃত্যুর বাস্তবতা মানুষকে বিনয়ী করে এবং অনিশ্চয়তার উপলব্ধি তাকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
অনেকেই অন্যের অধিকার নষ্ট করে, অবৈধ পথ অবলম্বন করে বা মানুষের কষ্টের ওপর নিজের সুখের প্রাসাদ গড়ে তোলেন। কিন্তু এই অন্যায়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বা ক্ষমতা কি সত্যিই কোনো মানুষকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে? যেসব মানুষের জন্য এত অন্যায় করা হচ্ছে, বিপদের দিনে তারা কি অপরাধের দায় বা শাস্তির অংশীদার হবে? বাস্তব সত্য হলো, মানুষ সুসময়ে পাশে থাকলেও দুঃসময়ে নিজের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়। তাই অন্যায়ের মাধ্যমে অর্জিত কোনো সম্পদই শেষ পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা দিতে পারে না।
মানুষের চাওয়ার কোনো শেষ নেই। একটি প্রত্যাশা পূরণ হলে আরেকটি নতুন চাওয়ার জন্ম হয়। ভালো বাড়ি, ভালো চাকরি বা বড় পদের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ একসময় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছায়, অথচ পৃথিবীতে আসার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবার সময় পায় না। তাই জীবনের এই অন্তহীন প্রতিযোগিতার মাঝে মাঝে একটু থামা উচিত। নিজের কর্মের হিসাব নেওয়া এবং অন্যের ক্ষতি না করে উপকারের চেষ্টা করা প্রয়োজন। কারণ মৃত্যুর পর কেউ তার সম্পদ বা প্রভাব সাথে নিয়ে যেতে পারে না। সংক্ষিপ্ত এই জীবনকে স্থায়ী ভেবে ভুল না করে, নিজের অবস্থান ও পরিণতি নিয়ে ভাবলে মানুষের জীবন আরও সুন্দর ও শান্তিময় হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: রিয়াজুল হক, অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।





























