ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ২০ টাকা বাড়ানোর বিকল্প যেখানে ছিল মহেশখালীতে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবক নিহত গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকে কীভাবে: প্রশ্ন টিআইবির ভিয়েতনামি কালো ধানে বোচাগঞ্জে নতুন স্বপ্নের পথে রকিবুল বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিতে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসে আবারও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা রেফারি মন্তব্যে শাস্তি থেকে বাঁচলেন রিয়াল কোচ মরিনিও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল হবে: সড়কমন্ত্রী শাহজালাল মাজারের দানের টাকা এখন থেকে প্রতিদিন গণনা করা হবে

ব্যবসা-বাণিজ্যে ইসলামি নীতিমালা: যেসব বিষয় বর্জন করা আবশ্যক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। ইসলাম এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নীতিমালা উপস্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এই নীতিমালার সঠিক অনুসরণের মাধ্যমেই একটি ইনসাফপূর্ণ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এবং যাবতীয় অকল্যাণকর বিষয় থেকে ব্যবসায়ীদের দূরে রাখে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে নীতি-নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রাখা অপরিহার্য। যে ব্যবসায়ী কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করেন না, তার উপার্জিত সম্পদে হারাম ও বাতিল মালের অনুপ্রবেশ ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। রাসুল (সা.) হারাম উপার্জনের পরিণাম সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। মুসনাদে আবি ইয়ালা (৭৮ নম্বর হাদিস) অনুযায়ী, রাসুল (সা.) বলেছেন, 'সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যাকে তৃপ্ত করা হয়েছে হারাম দ্বারা।'

ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে পণ্য বৈধ হওয়া প্রথম শর্ত। শরিয়তের দৃষ্টিতে শুয়োর, মদ বা এ জাতীয় হারাম বস্তুর কেনাবেচা সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং নৈতিকতা বহির্ভূত। এছাড়া, দালালি বা দরদামের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষা করা জরুরি। এমন দালালি করা, যেখানে দালালের নিজের পণ্য কেনার কোনো ইচ্ছা নেই কিন্তু দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তা ইসলামে নিষিদ্ধ। বোখারি শরিফের ২১৪০ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'এক মুসলমান যেন অপর মুসলমানের ওপর গিয়ে পণ্যের দাম না বলে এবং বিয়ের আলোচনা চলা অবস্থায় প্রস্তাব না দেয়।' এই ধরনের নীতিহীন কাজ প্রকৃত ক্রেতা বা বিক্রেতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তৃতীয় পক্ষকে অনৈতিক সুবিধা দেয়।

সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকেও ব্যবসায়ীদের দূরে থাকা প্রয়োজন। কোনো বৈধ পণ্য এমন কারো কাছে বিক্রি করা উচিত নয়, যার দ্বারা পণ্যটির অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে বোখারি শরিফের ১৪৮২ নম্বর হাদিসে সতর্কবার্তা রয়েছে।

ব্যবসায় সুদের সংমিশ্রণ ব্যবসাকে বরকতশূন্য করে দেয়। সুদ একটি সুস্পষ্ট হারাম কাজ, যার শাস্তির বিষয়টি দুনিয়া ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ সুদি কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের অজান্তে দৈনন্দিন জীবনে সুদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে, যেমন—গবাদিপশু প্রতিপালনের প্রচলিত পদ্ধতি, জমি বন্ধক রাখা, কিংবা ইসলামি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যথাযথ শরিয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করা। সুরা বাকারা-এর ২৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন।' এছাড়া আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত তিরমিজি শরিফের ১২০৬ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, সাক্ষী এবং সুদের হিসাব রক্ষক বা চুক্তিপত্র লেখক—সবার প্রতিই নবীজি (সা.) অভিশাপ করেছেন।

১. গবাদিপশু প্রতিপালনের জন্য বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

২. জমি বন্ধক দেওয়ার বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যবসা-বাণিজ্যে ইসলামি নীতিমালা: যেসব বিষয় বর্জন করা আবশ্যক

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। ইসলাম এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নীতিমালা উপস্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এই নীতিমালার সঠিক অনুসরণের মাধ্যমেই একটি ইনসাফপূর্ণ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এবং যাবতীয় অকল্যাণকর বিষয় থেকে ব্যবসায়ীদের দূরে রাখে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে নীতি-নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রাখা অপরিহার্য। যে ব্যবসায়ী কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করেন না, তার উপার্জিত সম্পদে হারাম ও বাতিল মালের অনুপ্রবেশ ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। রাসুল (সা.) হারাম উপার্জনের পরিণাম সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। মুসনাদে আবি ইয়ালা (৭৮ নম্বর হাদিস) অনুযায়ী, রাসুল (সা.) বলেছেন, 'সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যাকে তৃপ্ত করা হয়েছে হারাম দ্বারা।'

ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে পণ্য বৈধ হওয়া প্রথম শর্ত। শরিয়তের দৃষ্টিতে শুয়োর, মদ বা এ জাতীয় হারাম বস্তুর কেনাবেচা সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং নৈতিকতা বহির্ভূত। এছাড়া, দালালি বা দরদামের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষা করা জরুরি। এমন দালালি করা, যেখানে দালালের নিজের পণ্য কেনার কোনো ইচ্ছা নেই কিন্তু দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তা ইসলামে নিষিদ্ধ। বোখারি শরিফের ২১৪০ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'এক মুসলমান যেন অপর মুসলমানের ওপর গিয়ে পণ্যের দাম না বলে এবং বিয়ের আলোচনা চলা অবস্থায় প্রস্তাব না দেয়।' এই ধরনের নীতিহীন কাজ প্রকৃত ক্রেতা বা বিক্রেতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তৃতীয় পক্ষকে অনৈতিক সুবিধা দেয়।

সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকেও ব্যবসায়ীদের দূরে থাকা প্রয়োজন। কোনো বৈধ পণ্য এমন কারো কাছে বিক্রি করা উচিত নয়, যার দ্বারা পণ্যটির অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে বোখারি শরিফের ১৪৮২ নম্বর হাদিসে সতর্কবার্তা রয়েছে।

ব্যবসায় সুদের সংমিশ্রণ ব্যবসাকে বরকতশূন্য করে দেয়। সুদ একটি সুস্পষ্ট হারাম কাজ, যার শাস্তির বিষয়টি দুনিয়া ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ সুদি কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের অজান্তে দৈনন্দিন জীবনে সুদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে, যেমন—গবাদিপশু প্রতিপালনের প্রচলিত পদ্ধতি, জমি বন্ধক রাখা, কিংবা ইসলামি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যথাযথ শরিয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করা। সুরা বাকারা-এর ২৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন।' এছাড়া আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত তিরমিজি শরিফের ১২০৬ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, সাক্ষী এবং সুদের হিসাব রক্ষক বা চুক্তিপত্র লেখক—সবার প্রতিই নবীজি (সা.) অভিশাপ করেছেন।

১. গবাদিপশু প্রতিপালনের জন্য বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

২. জমি বন্ধক দেওয়ার বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh