মধ্যপ্রাচ্যে ৯ মাস আটকে চরম মানসিক ঝুঁকিতে ৫ হাজার মার্কিন সেনা
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সাগরে টানা ৯ মাস ধরে মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। সাধারণত ছয় মাসের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এটি সাগরে অবস্থান করায় এতে কর্মরত প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে এই রণতরী থেকে ১০ হাজারেরও বেশি বার যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। একই সঙ্গে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সার্বক্ষণিক হুমকির মুখে সেনাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমন চরম বৈরী ও ভীতিকর পরিবেশে একটানা দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটছে বলে তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
জাহাজে থাকা এক নাবিকের বাবা জেফারসন কেলি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুরোনো এই যুদ্ধজাহাজগুলো সচল রাখতে সেনাদের দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হচ্ছে। এত দীর্ঘ সময় তাদের এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষুব্ধ এই বাবা এতটাই মরিয়া যে, ছেলের পরিবর্তে নিজে গিয়ে জাহাজে কাজ করারও আকুতি জানিয়েছেন, যেন তার সন্তানকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সেনাদের এই দুর্দশার চিত্র ও জাহাজের ভেতরের শোচনীয় পরিবেশ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন দেশটির রাজনীতিবিদরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে জাহাজে পরিষ্কার পানির তীব্র সংকট, বাথরুমের সমস্যা ও সেনাদের মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং নৌবাহিনী এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং সেনাদের আত্মহত্যার ঝুঁকির খবরটি ভিত্তিহীন। নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রসদ পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও জাহাজে পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও কাউন্সিলর নিয়োজিত আছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথও জাহাজের শোচনীয় অবস্থার খবরগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সরকারি এসব আশ্বাসে শান্ত হতে পারছেন না উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা। গত সপ্তাহে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তারা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সন্তানদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হতে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’। তবে দুই জাহাজের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আব্রাহাম লিংকনের দেশে ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।




























