ভিসা জটিলতায় চাকরি হারাচ্ছেন বাংলাদেশি নাবিকরা, কূটনৈতিক সমাধানের দাবি
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও সুয়েজ ক্যানেলসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম হাবে ভিসা, ট্রানজিট, ক্রু-চেঞ্জ, শিপ-জয়েনিং এবং সাইন-অফ সংক্রান্ত জটিলতায় বাংলাদেশি নাবিকরা তাদের চাকরি হারাচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে সরকারের কাছে জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশন। শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রকৌশলী মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, রিলায়েন্স শিপিং সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবুল খায়ের, ইউনিকর্ন শিপিং সার্ভিসের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন সৈয়দ আমির হোসেন, মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মইন আহমেদ এবং এরিসটোক্রাট মার্চেন্ট মেরিন সার্ভিস লিমিটেডের ডিজিএম সুমন সিকদার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি নাবিক কর্মরত আছেন। তারা প্রতি বছর প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউনাইটেড আরব আমিরাতে প্রবেশ, ট্রানজিট ও ক্রু-চেঞ্জ অনুমোদন, মিশরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পোর্ট সাঈদ ও সুয়েজ ক্যানেল অঞ্চলে সাইন-অন ও সাইন-অফের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধার কারণে নাবিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে ভিসা অনুমোদন না পাওয়ায় নিশ্চিত নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও শত শত নাবিক সময়মতো জাহাজে যোগ দিতে পারছেন না। এর ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সুযোগে বাংলাদেশের ক্রু এবং মেরিন অফিসার-ইঞ্জিনিয়ারদের জায়গা দখল করছেন ভারত ও ফিলিপাইনের নাবিকরা।
এই ভিসা জটিলতা স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে মেরিটাইম কাউন্সিলর নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা কোনো দেশের অভিবাসন নীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চাই না, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভিসা ও ক্রু-পরিবর্তন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।





























