বুয়েট ও বিসিএস ছেড়ে প্রাথমিকে শিক্ষকতা, অন্যরকম সাফল্যে নায়লা শারাফ
- আপডেট সময় : ০২:০০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

প্রচলিত অর্থে সাফল্যের সবকটি ধাপই পেরিয়েছিলেন নায়লা শারাফ। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে যোগ দিয়েছিলেন সরকারি চাকরিতে। এরপর কাজ করেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে। এমনকি ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদে যোগ দেননি তিনি। অর্থ, সামাজিক মর্যাদা বা বড় পদের মোহ পেছনে ফেলে তিনি বেছে নিয়েছেন প্রান্তিক শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর পথ। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোণা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।
নায়লা শারাফের কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। তবে সেখানকার কর্মপরিবেশ ও কিছু অনিয়মের সঙ্গে আপস করতে না পেরে দ্রুতই সেই চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি যোগ দেন জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের যান্ত্রিক জীবনও তাকে টানতে পারেনি। পরবর্তীতে ৩৪তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সফল হলেও সেই কাঙ্ক্ষিত বিসিএস ক্যাডারের চাকরিতে আর যোগ দেননি। নিজের মেধা ও শিক্ষাকে প্রান্তিক শিশুদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার এক সচেতন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
প্রথাগত সাফল্যের চেয়ে মানসিক শান্তি এবং মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগকেই বড় মনে করেন নায়লা। তিনি মনে করেন, বড় কোনো পদের পেছনে না ছুটে দিন শেষে নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা এবং শান্তিতে ঘুমাতে পারাই জীবনের আসল প্রাপ্তি। তার কাছে একটি শিশুর নতুন কিছু শেখা, আত্মবিশ্বাসী হওয়া এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় অর্জন।
শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সত্যবাদী, সাহসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন নায়লা শারাফ। শিশুদের নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করার অভ্যাস তৈরি করতে উৎসাহিত করেন তিনি। পাঠদানকে আকর্ষণীয় করতে তিনি নিজেই ছবি আঁকেন, বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরি করেন এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করেন। ভিকারুননিসায় পড়ার সময় নিজে যে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন সেই সুযোগ পায়, সেটিই নায়লার মূল স্বপ্ন।
পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লীলা রানী ভৌমিক নায়লা শারাফকে একজন ব্যতিক্রমী শিক্ষক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, বুয়েট থেকে পড়াশোনা করেও প্রান্তিক শিশুদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসে পড়ানোর যে মানসিকতা নায়লা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। দেশের মেধাবী তরুণদেরও প্রাথমিক শিক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নায়লা শারাফ। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো প্রতিদানের আশা না রেখে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে তরুণরা শিক্ষকতায় এলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র বদলে যাবে।





























