নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার নতুন যোগ্যতা প্রকাশ
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা ও ইউরোপের পাশাপাশি বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনার প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা মাথায় রেখে নিউজিল্যান্ড সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, যাঁরা এই ভিসার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না, তাঁদের জন্য ছয় মাসমেয়াদি নতুন ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিউজিল্যান্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে ২৪টি অনুমোদিত শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় লেভেল ৪ সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা পর্যন্ত বিভিন্ন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং, নির্মাণ, শিক্ষা ও কৃষি খাতের স্নাতকেরা এই নতুন ভিসার আওতায় কাজের সুযোগ পাবেন। নিউজিল্যান্ড কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (NZQF) অনুযায়ী, লেভেল ৭ বা তার নিচের নন-ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের তাদের পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চাকরিতে নিযুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ, অর্জিত যোগ্যতার সঙ্গে চাকরির ক্ষেত্রের মিল থাকা বাধ্যতামূলক।
অনুমোদিত তালিকার মধ্যে রয়েছে: লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন হাইওয়ে বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (নির্মাণ প্রকল্প ব্যবস্থাপক), লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন কনস্ট্রাকশন বা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট (প্রকল্প ব্যবস্থাপক বা বিল্ডার), লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন কোয়ান্টিটি সার্ভেয়িং (কোয়ান্টিটি সার্ভেয়ার), শিক্ষা খাতে গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা শিশুশিক্ষক), লেভেল ৬ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (টেকনিশিয়ান), লেভেল ৫ বা তার বেশি ডিপ্লোমা ইন ফার্ম ম্যানেজমেন্ট, অ্যাগ্রিকালচার বা ডেইরি টেকনোলজি (ডেইরি ক্যাটল ফার্মার), এবং লেভেল ৪ সার্টিফিকেট ইন অটোমোটিভ ইলেকট্রিক্যাল বা হেভি অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং (অটোমোটিভ ইলেকট্রিশিয়ান বা ডিজেল মেকানিক) ও অ্যাগ্রিকালচার (ডেইরি বা লাইভস্টক ফার্মিং)। উল্লেখ্য, শিক্ষা খাতে কাজের জন্য কেবল ডিপ্লোমা যথেষ্ট নয়; আবেদনকারীদের নিউজিল্যান্ড টিচিং কাউন্সিলের নিবন্ধন ও সার্টিফিকেশন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড সরকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুরুর আগেই তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে। আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের হেড অব সেলস অ্যান্ড অপারেশন আনোয়ার হোসেন জানান, এই পরিবর্তন বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য, বিশেষ করে যারা দ্রুত চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর। অন্যদিকে, যাদের ভালো একাডেমিক প্রোফাইল ও আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রি বিবেচনার মাধ্যমে তিন বছর পর্যন্ত পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল মাস্টার অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে ভর্তির ক্ষেত্রে যেমন ২.৫০ সিজিপিএ প্রয়োজন হয়, তেমনি নিউজিল্যান্ডের এই ভিসা নীতিতেও নির্দিষ্ট একাডেমিক মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব যোগ্যতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



























