জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবিতে শিবিরের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৫:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জকসু নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠনটি। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরানা পল্টনে শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর নেতৃত্বে কর্মসূচি পালন করা হয়। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও টেন্ডারবাজি চালিয়ে যে পতিত স্বৈরাচার আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা ছাত্রদলের জন্যই বুমেরাং হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে অবৈধ কমিশনের লোভে ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হামলায় আহতদের তালিকা তুলে ধরা হয়, যেখানে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও এজিএস মাসুদ রানাসহ অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। এছাড়া ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাতেও ছাত্রদল ও যুবদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে: ১. সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবির সাহায্যে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফের চোয়াল ভেঙে দেওয়া জবি ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও জাফর, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনায় জড়িত যুবদল নেতা নয়ন এবং বেরোবিতে হামলাকারী বহিরাগত সকল সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্টর অফিসের যেসকল কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ৩. জকসু নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কর্তব্যরত আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকে বহন করতে হবে। ৪. ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের আবাসিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫. জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ অবিলম্বে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, হামলার প্রতিবাদে ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করা হবে।





























