দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ল ৫৭ শতাংশ
- আপডেট সময় : ১০:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রবণতা ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস, অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে মোট ২ হাজার ৪৬৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু আগস্ট মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৪০৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার। অথচ ২০২৫ সালের আগস্টে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে মাসটিতে বিক্রি বেড়েছে ১২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ব্যাংকের আমানতের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে তুলনামূলক ভালো রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ থাকায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। এছাড়া চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিক্রি বাড়লেও সঞ্চয়পত্র এখনো সরকারের জন্য বড় ধরনের নিট ঋণের উৎস হয়ে উঠতে পারেনি। নতুন বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ পুরনো বিনিয়োগকারীদের মূল টাকা ফেরত দিতেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৯২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু একই সময়ে পুরনো সঞ্চয়পত্রের মূলধন পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৯২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। ফলে ওই অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৪৩৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। অথচ বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।
একসময় সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস ছিল সঞ্চয়পত্র। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে নতুন বিনিয়োগের অর্থের বড় অংশ পুরনো বিনিয়োগকারীদের মূলধন ও মুনাফা পরিশোধে চলে যাওয়ায় সরকারের হাতে থাকছে তুলনামূলক কম অর্থ। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে গ্রাহকদের মোট বিনিয়োগ বা সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের আগস্টে ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা।



























