ডিএসইতে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে কোম্পানিটির কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয় এবং ঋণদাতা ব্যাংকগুলো এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে দক্ষ জনবলের বড় একটি অংশ চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় তীব্র কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। কাঁচামাল ও জনবল সংকটের এই দ্বিমুখী চাপে কারখানাটি উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা পুনরায় উৎপাদন শুরুর চেষ্টা করবে। তবে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব না হলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কোম্পানিটি যুক্ত হওয়ার ফলে ডিএসইতে বন্ধ বা অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, কিছু কোম্পানি তাদের সমস্যার কথা এক্সচেঞ্জকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেও অনেক প্রতিষ্ঠানই কারখানা বন্ধের তথ্য প্রকাশ করে না। নিয়মিত পরিদর্শনের সময় ডিএসই কর্তৃপক্ষ অনেক কারখানায় কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এই বন্ধ হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। তবে মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ ২০০২ সাল থেকে এবং বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে।
বন্ধ কোম্পানির তালিকায় ইস্পাত, বস্ত্র, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, প্রকৌশল, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রাসায়নিক খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের আগে একই গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান—অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস ও এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক—এই তালিকায় যুক্ত হয়েছিল। বর্তমানে ডিএসইতে মোট ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ১৬০টি 'এ', ৭৪টি 'বি' এবং ১২৬টি 'জেড' ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে 'জেড' ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।





























