বিরোধী দল স্বৈরাচারী ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের দেশে থাকা বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে আগের মতো ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচার হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, বিরোধী দলও সেই একই ভাষায় কথা বলছে। তারা কথায় কথায় বলছে করতে দিবো না, চলতে দিবো না। অথচ বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস হয়েছে এবং এর মধ্যেই সরকার দেশে বহু পরিবর্তন এনেছে।
গতকাল দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা 'লাভ শেয়ার বিডি'র নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত 'সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে সরকার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এত তাড়াতাড়ি এসব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, কারণ তাদের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই। জ্বালানি সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একটিও গ্যাস ও তেলের খনির অনুসন্ধান করেনি এবং বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর তেল ও গ্যাসের কূপ খননের জন্য টেন্ডার দিয়েছে।
তেল ও গ্যাস আমদানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস আমদানিতে ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এর পরেও দেশের মানুষ একদিনও তেল-গ্যাস ছাড়া থাকেনি। সরবরাহ কিছুটা কমলেও চরম সংকট দেখা দেয়নি এবং বিদ্যমান সংকট অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে। এছাড়া জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের ভাষা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং দেশ ও সংসদ পরিচালনা করবে। যদি সরকার ব্যর্থ হয় তখন সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু কাজ করার আগেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়া অনুচিত। তিনি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিকরা ইচ্ছামতো লিখতে পারছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
লাভ শেয়ার বিডি’র পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু। এছাড়া রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫টি চা দোকান ঘর হস্তান্তর করা হয়।





























