ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আশাশুনিতে কুড়িকাহুনিয়া বেড়িবাঁধ ধসে ১০-১২ গ্রাম প্লাবনের আশঙ্কা নেদারল্যান্ডসের কর্মীদের কূটনৈতিক মর্যাদা বাতিল, ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ: সুন্দরবনের ৪ জেলে কারাগারে ছেলের ১০ বছরে পদার্পণ: জয়কে নিয়ে কক্সবাজারে উড়াল দিলেন অপু বিশ্বাস ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন ঘিরে বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম সরবরাহে বিলম্ব যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের দর-কষাকষির অবস্থান দুর্বল হবে: আইনপ্রণেতা সিরাজগঞ্জ বিএনপিতে অচলাবস্থা নিরসনে তারেক রহমানকে খোলা চিঠি কেরানীগঞ্জের ফরহাদ হত্যা মামলার আসামি আরমান গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার সিলেট মহানগর বিএনপির তৃণমূল গোছাতে নতুন উদ্যোগ

চাঁদাবাজি ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে ‘ভিক্ষার বাক্স’ বসানোর ডাক হাসনাত ও পাটওয়ারীর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে অভিনব এক প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাধারণ মানুষের প্রতি ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ বা ‘ভিক্ষার বাক্স’ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, এই বাক্সে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষা’ দেওয়া হবে, যা তাদের কর্মসংস্থান হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে চাঁদাবাজরা আর সাধারণ মানুষের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরে হামলা বা লুটপাট করতে যাবে না।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে হাতিরপুল এলাকায় এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্যোগে এই প্রতীকী কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তাঁরা দুটি প্রতীকী ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ প্রদর্শন করেন। বাক্স দুটির গায়ে চাঁদাবাজদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি সাঁটানো ছিল। সেখানে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র!’ এবং ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয়, ভিক্ষা দিন’। দেশের সব মোড়ে মোড়ে এ ধরনের বাক্স বসিয়ে চাঁদাবাজ নির্মূল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এনসিপি নেতারা।

বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের নিচে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। শুরুতে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, জনগণকে মুক্তি দে’, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি, চলবে না চলবে না’, ‘চাঁদাবাজির বাংলাদেশ, ফিরবে না ফিরবে না’ এবং ‘নো টেইক ব্যাক বাংলাদেশ, ফরওয়ার্ড বাংলাদেশ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মাছবাজার, কাঁচাবাজার, হাসপাতাল, পরিবহন খাতসহ সব ধরনের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে চরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গেলেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ও মাদ্রাসা দখল করা হচ্ছে এবং ঢাকা শহরে দিনে-দুপুরে অস্ত্র নিয়ে দখল ও লুণ্ঠন চালানো হচ্ছে।

চলমান এই অপরাধমূলক পরিস্থিতি থেকে মানুষের মুক্তি প্রয়োজন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের প্রতিটি এলাকায় ও মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজদের জন্য দানবাক্স খোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নাগরিকেরা এই বাক্সে ৫-১০ টাকা করে দেবেন। বিএনপির চাঁদাবাজ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এই বাক্স থেকে টাকা নিয়ে যান, তবুও আমাদের বাড়িঘর ও হাসপাতাল ভাঙচুর করবেন না। চরে মহিষকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য চাঁদা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা এসব এলাকায় দানবাক্স দিয়ে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘আপনারা অন্তত আমাদের জানের নিরাপত্তা দিন। আমরা আপনাদের ভিক্ষা দেব, তাও আমাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা নষ্ট করবেন না, সালমান মুক্তাদিরদের স্টুডিও ভাঙার দরকার নেই। আমরা মাদ্রাসা ও ঘরবাড়ি দখল থেকে নিস্তার চাই।’

হাসনাতের বক্তব্যের পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্লোগান ধরেন। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে নেতা-কর্মীরা ‘চাঁদাবাজের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘চাঁদাবাজের কফিনে, পেরেক মারো একসাথে’ স্লোগান দেন।

এরপর প্রতীকী দানবাক্স নিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এবং হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এনসিপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেকে নিজেদের দোকানে একটি করে বাক্স রাখুন এবং ক্রেতাদের সেখানে ভিক্ষা দিতে বলুন। কোনো চাঁদাবাজ এলে বলবেন যে চাঁদাবাজির টাকা দেওয়া হবে না, বরং ভিক্ষার বাক্স থেকে টাকা নিয়ে যেতে। তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে এটি আর চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

কর্মসূচিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে প্রতিটি রাস্তার মোড়ে ও দোকানে এই দানবাক্স বা ভিক্ষার বাক্স রাখা উচিত। কেউ চাঁদা চাইতে এলে এই বাক্স থেকে টাকা নিতে বলে নিজেদের জীবন বাঁচানোর আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদাবাজি ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে ‘ভিক্ষার বাক্স’ বসানোর ডাক হাসনাত ও পাটওয়ারীর

আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে অভিনব এক প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাধারণ মানুষের প্রতি ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ বা ‘ভিক্ষার বাক্স’ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, এই বাক্সে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষা’ দেওয়া হবে, যা তাদের কর্মসংস্থান হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে চাঁদাবাজরা আর সাধারণ মানুষের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরে হামলা বা লুটপাট করতে যাবে না।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে হাতিরপুল এলাকায় এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্যোগে এই প্রতীকী কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তাঁরা দুটি প্রতীকী ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ প্রদর্শন করেন। বাক্স দুটির গায়ে চাঁদাবাজদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি সাঁটানো ছিল। সেখানে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র!’ এবং ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয়, ভিক্ষা দিন’। দেশের সব মোড়ে মোড়ে এ ধরনের বাক্স বসিয়ে চাঁদাবাজ নির্মূল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এনসিপি নেতারা।

বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের নিচে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। শুরুতে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, জনগণকে মুক্তি দে’, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি, চলবে না চলবে না’, ‘চাঁদাবাজির বাংলাদেশ, ফিরবে না ফিরবে না’ এবং ‘নো টেইক ব্যাক বাংলাদেশ, ফরওয়ার্ড বাংলাদেশ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মাছবাজার, কাঁচাবাজার, হাসপাতাল, পরিবহন খাতসহ সব ধরনের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে চরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গেলেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ও মাদ্রাসা দখল করা হচ্ছে এবং ঢাকা শহরে দিনে-দুপুরে অস্ত্র নিয়ে দখল ও লুণ্ঠন চালানো হচ্ছে।

চলমান এই অপরাধমূলক পরিস্থিতি থেকে মানুষের মুক্তি প্রয়োজন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের প্রতিটি এলাকায় ও মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজদের জন্য দানবাক্স খোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নাগরিকেরা এই বাক্সে ৫-১০ টাকা করে দেবেন। বিএনপির চাঁদাবাজ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এই বাক্স থেকে টাকা নিয়ে যান, তবুও আমাদের বাড়িঘর ও হাসপাতাল ভাঙচুর করবেন না। চরে মহিষকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য চাঁদা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা এসব এলাকায় দানবাক্স দিয়ে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘আপনারা অন্তত আমাদের জানের নিরাপত্তা দিন। আমরা আপনাদের ভিক্ষা দেব, তাও আমাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা নষ্ট করবেন না, সালমান মুক্তাদিরদের স্টুডিও ভাঙার দরকার নেই। আমরা মাদ্রাসা ও ঘরবাড়ি দখল থেকে নিস্তার চাই।’

হাসনাতের বক্তব্যের পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্লোগান ধরেন। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে নেতা-কর্মীরা ‘চাঁদাবাজের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘চাঁদাবাজের কফিনে, পেরেক মারো একসাথে’ স্লোগান দেন।

এরপর প্রতীকী দানবাক্স নিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এবং হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এনসিপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেকে নিজেদের দোকানে একটি করে বাক্স রাখুন এবং ক্রেতাদের সেখানে ভিক্ষা দিতে বলুন। কোনো চাঁদাবাজ এলে বলবেন যে চাঁদাবাজির টাকা দেওয়া হবে না, বরং ভিক্ষার বাক্স থেকে টাকা নিয়ে যেতে। তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে এটি আর চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

কর্মসূচিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে প্রতিটি রাস্তার মোড়ে ও দোকানে এই দানবাক্স বা ভিক্ষার বাক্স রাখা উচিত। কেউ চাঁদা চাইতে এলে এই বাক্স থেকে টাকা নিতে বলে নিজেদের জীবন বাঁচানোর আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo