আশাশুনিতে কুড়িকাহুনিয়া বেড়িবাঁধ ধসে ১০-১২ গ্রাম প্লাবনের আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধে হঠাৎ ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। এতে শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকার ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই ভাঙন সকাল ৭টার দিকে তীব্র রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যে কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধ ও ওয়াপদা সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদী ও খালে বিলীন হয়ে গেছে।
এই আকস্মিক ভাঙনের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৯ ও ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং জোয়ারের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, ফসল ও মৎস্যঘের হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া উপকূলীয় এলাকার মানুষগুলো নতুন করে সবকিছু হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু কষ্টে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার মাঝেই এই বিপর্যয় তাদের সামনে নতুন সংকট তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (29 September 2026) তারিখ ভোর ০৪:১৩ (04:13) মিনিটে এই ভাঙন ও দুর্যোগ পরিস্থিতির খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
ভাঙনের খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করেন। তারা বালি ও মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সাময়িকভাবে মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় প্রতিনিধি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সকাল থেকে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তারা ভাঙন ঠেকাতে কাজ করছেন। তবে দ্রুত বালি ভর্তি জিওব্যাগ ফেলে টেকসই সংস্কার করা না হলে ভাঙনের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। তিনি ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ভাঙনকবলিত স্থানটি তারা পরিদর্শন করেছেন। প্রায় ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। নদীর তীব্র স্রোত মোকাবিলা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।




























