চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অবসায়নের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যে চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো— আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা। তাদের সহায়তার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুইজন করে সহযোগী প্রশাসকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে মো. আলাউদ্দিন হোসেন, এফএএস ফাইন্যান্সে আবু সামা মো. আতাউর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে মো. সাদেকুর রহমানকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অবসায়নের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসেও প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে বর্তমানে সেখানে আদালত কর্তৃক একটি পরিচালনা পর্ষদ কর্মরত থাকায়, তা বাতিল চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নতি করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গত বছর দুর্বল ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাখ্যা চেয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পান। পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বিক্রি বা ঋণ আদায়ের মাধ্যমে আনুপাতিক হারে বাকি টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।




























