কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাড়ির মালিককে নৃশংসভাবে হত্যা, লাশ ১৪ টুকরো
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের ‘পূর্বাশা আবাসিক এলাকার’ ভূঁইয়া হাউজে ফরিদা ইয়াসমিন (৬০) নামের এক বাড়ির মালিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ওই এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। বর্তমানে তার স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। সম্প্রতি বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তার নামের এক নারীর কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছিল।
শনিবার সকালে ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী তাকে ফোনে না পেয়ে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে বাড়িতে খোঁজ নিতে বলেন। মরিয়ম বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বারান্দা ভেজা দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। বিকেলে ফরিদার ভাগনে মামুন বাসার পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সংক্ষুব্ধ হয়ে ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে।
দেবিদ্বার থানা-পুলিশ রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরিদার খণ্ডিত লাশের ১১টি প্যাকেট উদ্ধার করে এবং লাইলী আক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। লাইলী দেবিদ্বারের চাপানানগর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রীর শরীরে স্বর্ণালংকার ছিল; ধারণা করা হচ্ছে সেই লোভেই তাকে হত্যা করে লাশের টুকরাগুলো ঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্যাকেটের বাইরেও মরদেহের মাথা ও পায়ের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে লাইলী আক্তার ছাড়াও তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরও তিন যুবক জড়িত ছিলেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ এখন পর্যন্ত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করেছে। তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





























