শাহজালালে আটকা ১৩ হাজার যাত্রী, বাতিল ৮২ ফ্লাইট
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনার জেরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চিরচেনা ব্যস্ততা এখন অনেকটাই স্তিমিত। একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৌদিগামী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের আনাগোনা কমে গেছে এবং টার্মিনাল এলাকা এখন প্রায় ফাঁকা। সিভিল এভিয়েশন অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে ৮২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ৩২টি ডিরেক্ট এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
বাতিল হওয়া ডিরেক্ট ফ্লাইটের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ১০টি, ইউএস বাংলার ১০টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, সালাম এয়ারের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১১টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৬টি এবং ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি ফ্লাইট। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরা এখন চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। ফেনীর বাসিন্দা মোহাম্মদ রাব্বি ও শুক্কুর মিয়ার মতো অনেক যাত্রীই নির্ধারিত ফ্লাইটে দাম্মাম যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে পেরেছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারার শঙ্কায় তারা এখন হতাশ। নাসির উদ্দীন ও হাবিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, বিমানবন্দরের এমন ফাঁকা দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি।
এদিকে, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির নির্দেশে সব এয়ারলাইন্সকে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এসএমএস, ফোনকল বা ই-মেইলের মাধ্যমে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল ও খাবারের পাশাপাশি বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের বিশেষ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ করতে বলা হয়েছে, যিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
অন্যদিকে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন এবং টিকিট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন।





























