কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য উদঘাটন, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা ওই কিশোরী কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে তিশা কাউন্টারে নামে। সেখান থেকে নগরের রেইসকোর্স এলাকায় নিজের ভাড়া বাসায় ফেরার জন্য সে ৩০০ টাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। পথিমধ্যে চালক সুমনকে দিয়ে কিশোরী কলা ও রুটি কেনায়। এরপর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন নির্ধারিত পথে না গিয়ে চাঁদপুর সড়কের দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে নেয়। লাকসামের বিজরা বাজার হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হয়।
পুলিশের দাবি, জগতপুর এলাকায় গিয়ে অটোরিকশাটি বন্ধ করে দিলে কিশোরী জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চায়। রেইসকোর্স এলাকা নয় বুঝতে পেরে সে ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সুমন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোরী দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাকে ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে ধানক্ষেতে নিয়ে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হত্যার পর কিশোরীর ব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতেই ফেলে দেন সুমন। অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে রেখে তিনি কাচিকাটা মসজিদের সামনে গিয়ে পুকুরে গোসল করেন। এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রাখেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। এর আগে ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।


























