রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ আটজনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ। রায় অনুযায়ী, প্রত্যেক আসামিকে জরিমানাও করা হয়েছে।
আদালতের রায়ে রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব ধারায় তাদের প্রত্যেককে সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একইভাবে আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের ক্ষেত্রেও আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিদের হাজতবাস মূল সাজা থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। এছাড়া শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত পূর্বাচলের সেক্টর-০১, রোড-৪০৫ এর ১১ ও ১৩ নম্বর প্লট দুটি বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে দুটি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিলেন, যা রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত সেক্টর-০১, রোড-৪০৫, প্লট নম্বর-০১১ ও ০১৩-এই দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।


























