ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজ ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নির্ভুল হামলা: বিপর্যস্ত জ্বালানি ও বিশ্ব অর্থনীতি বাংলামটরে এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ উপনিবেশোত্তর পাকিস্তান আমলে বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি বৈষম্য গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স: ক্ষুধা কমানোর গতি কমে বাংলাদেশ ৮৪তম বন্দর লিজের আগে জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি সাইফুল হকের পরিবেশ রক্ষায় কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরসূচিতে প্রস্তুতি ম্যাচের সময় কমল প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সালমানের প্র্যাঙ্কে শুটিং সেটে কেঁদে ফেলেছিলেন কারিশমা কাপুর

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বড় ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ ছদ্মনামে একটি কেস স্টাডির মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে এই অর্থ পাচারের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘এস গ্রুপ’ মূলত এস আলম গ্রুপ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে এস আলম গ্রুপ দেশের ৭টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এরপর কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, নামমাত্র জামানতে নামে-বেনামে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে শিল্পগোষ্ঠীটি। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে গ্রুপটির রাখা বন্ধকি সম্পদের বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৩২ হাজার কোটি টাকা। মোট ঋণের মধ্যে ৯০ হাজার কোটি টাকা ৪৩টি সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নামে এবং ৯৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অবশিষ্ট ৩৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে অন্যান্য মাধ্যমে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারির সাক্ষী হয়েছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির মূলে ছিল জালিয়াতিপূর্ণ ঋণ, নিয়ন্ত্রণমূলক আইন লঙ্ঘন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাংকিং কাঠামোর পদ্ধতিগত কারসাজি। এস আলম গ্রুপ রাজনৈতিক সমর্থনকে পুঁজি করে এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আইনকে পাশ কাটিয়ে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। ব্যাংকগুলোর পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন নিজেদের মতো করে পরিবর্তন করে এবং কোনো ধরনের নজরদারি ছাড়াই একের পর এক ঋণ অনুমোদন করিয়ে নেয়।

লুট করা এই অর্থ হুন্ডি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টের আড়ালে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। বিএফআইইউ জানিয়েছে, গ্রুপটির মূল ব্যক্তিরা তিনটি ভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, যা পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া গ্রুপটির বিদেশি উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয় সেবার আড়ালে অবৈধ অর্থ পাচারের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে কাজ করেছে।

বিএফআইইউ এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের নজিরবিহীন ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতার চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে গত শনিবার প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এই ই-মেইলের কোনো উত্তর দেয়নি, ফলে পাচারের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বড় ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ ছদ্মনামে একটি কেস স্টাডির মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে এই অর্থ পাচারের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘এস গ্রুপ’ মূলত এস আলম গ্রুপ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে এস আলম গ্রুপ দেশের ৭টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এরপর কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, নামমাত্র জামানতে নামে-বেনামে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে শিল্পগোষ্ঠীটি। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে গ্রুপটির রাখা বন্ধকি সম্পদের বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৩২ হাজার কোটি টাকা। মোট ঋণের মধ্যে ৯০ হাজার কোটি টাকা ৪৩টি সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নামে এবং ৯৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অবশিষ্ট ৩৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে অন্যান্য মাধ্যমে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারির সাক্ষী হয়েছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির মূলে ছিল জালিয়াতিপূর্ণ ঋণ, নিয়ন্ত্রণমূলক আইন লঙ্ঘন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাংকিং কাঠামোর পদ্ধতিগত কারসাজি। এস আলম গ্রুপ রাজনৈতিক সমর্থনকে পুঁজি করে এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আইনকে পাশ কাটিয়ে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। ব্যাংকগুলোর পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন নিজেদের মতো করে পরিবর্তন করে এবং কোনো ধরনের নজরদারি ছাড়াই একের পর এক ঋণ অনুমোদন করিয়ে নেয়।

লুট করা এই অর্থ হুন্ডি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টের আড়ালে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। বিএফআইইউ জানিয়েছে, গ্রুপটির মূল ব্যক্তিরা তিনটি ভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, যা পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া গ্রুপটির বিদেশি উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয় সেবার আড়ালে অবৈধ অর্থ পাচারের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে কাজ করেছে।

বিএফআইইউ এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের নজিরবিহীন ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতার চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে গত শনিবার প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এই ই-মেইলের কোনো উত্তর দেয়নি, ফলে পাচারের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo