ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাবের গেজেট প্রকাশ অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফেরাতে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্ব হারালেন সালমান, পাকিস্তানের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ফারহান সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু করল মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার সমীকরণ এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগে কসোভোয় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে সাতক্ষীরার জয়জয়কার: ৩ স্বর্ণসহ ৪ পদক সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, করযোগ্য মাত্র ৩টি আয় পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’

সার্কের সঙ্গে বিমসটেকের তুলনা বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক: ইন্দ্র মণি পান্ডে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সার্কের (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) সঙ্গে বিমসটেকের তুলনা করা বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। তিনি বলেন, এ ধরনের তুলনা বিমসটেকের নিজস্ব স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি এবং সদস্য দেশগুলোর যৌথ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিমসটেক একটি গতিশীল ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকার বিমসটেক সদর দপ্তরে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মহাসচিব এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিমসটেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই আঞ্চলিক জোটের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্য কোনো সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার না করে বিমসটেককে তার নিজস্ব ম্যান্ডেট, অর্জন এবং সম্ভাবনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত。

ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, বিমসটেক কোনো সুদূর বা কাল্পনিক সম্ভাবনা নয়, বরং এটি একটি বাস্তব ও বর্তমান সুযোগ। আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সদস্য দেশগুলোকে এই প্ল্যাটফর্মের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশ এই দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে আরও কার্যকর, ফলাফল-ভিত্তিক এবং জন-কেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে ঢাকা।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশ—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে একত্রিত করেছে বিমসটেক। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটটি প্রায় ১৮০ কোটি মানুষের একটি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে, বিশেষ করে এর সনদ গ্রহণের পর থেকে। বর্তমানে সহযোগিতার কার্যক্রমকে সাতটি বৃহৎ খাতে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র নির্দিষ্ট একটি খাতের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইন্দ্র মণি পান্ডে জানান, বিমসটেক সদস্য দেশগুলো একটি ভিসা সহজীকরণ স্কিম চূড়ান্ত করার কথা ভাবছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, ভ্রমণ, পর্যটন এবং পারস্পরিক আদান-প্রদান বাড়াতে ভিসা সহজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সব দেশই মনে করে। বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী মাস ও বছরগুলোতে কিছু চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। তবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা একটি জটিল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমনকি দ্বিপক্ষীয় এফটিএ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও অনেক সময় লেগে যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সার্কের সঙ্গে বিমসটেকের তুলনা বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক: ইন্দ্র মণি পান্ডে

আপডেট সময় : ১১:২২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সার্কের (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) সঙ্গে বিমসটেকের তুলনা করা বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। তিনি বলেন, এ ধরনের তুলনা বিমসটেকের নিজস্ব স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি এবং সদস্য দেশগুলোর যৌথ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিমসটেক একটি গতিশীল ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকার বিমসটেক সদর দপ্তরে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মহাসচিব এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিমসটেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই আঞ্চলিক জোটের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্য কোনো সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার না করে বিমসটেককে তার নিজস্ব ম্যান্ডেট, অর্জন এবং সম্ভাবনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত。

ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, বিমসটেক কোনো সুদূর বা কাল্পনিক সম্ভাবনা নয়, বরং এটি একটি বাস্তব ও বর্তমান সুযোগ। আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সদস্য দেশগুলোকে এই প্ল্যাটফর্মের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশ এই দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে আরও কার্যকর, ফলাফল-ভিত্তিক এবং জন-কেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে ঢাকা।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশ—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে একত্রিত করেছে বিমসটেক। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটটি প্রায় ১৮০ কোটি মানুষের একটি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে, বিশেষ করে এর সনদ গ্রহণের পর থেকে। বর্তমানে সহযোগিতার কার্যক্রমকে সাতটি বৃহৎ খাতে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র নির্দিষ্ট একটি খাতের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইন্দ্র মণি পান্ডে জানান, বিমসটেক সদস্য দেশগুলো একটি ভিসা সহজীকরণ স্কিম চূড়ান্ত করার কথা ভাবছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, ভ্রমণ, পর্যটন এবং পারস্পরিক আদান-প্রদান বাড়াতে ভিসা সহজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সব দেশই মনে করে। বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী মাস ও বছরগুলোতে কিছু চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। তবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা একটি জটিল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমনকি দ্বিপক্ষীয় এফটিএ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও অনেক সময় লেগে যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh