ইরান যুদ্ধের খরচে দিশাহারা পেন্টাগন, অতিরিক্ত তহবিল চাইলেন হেগসেথ
- আপডেট সময় : ১১:২৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ইরানে নতুন করে ভারী বোমাবর্ষণ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মূলত অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ চালিয়ে নিতে জরুরি অতিরিক্ত তহবিল চাওয়ার লক্ষ্যেই তিনি আইনপ্রণেতাদের সামনে হাজির হন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকা অবস্থায় এই যুদ্ধব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান Parti-কে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেখানে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধের বিপুল খরচকে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার চালাচ্ছেন। অবশ্য পেন্টাগন কীভাবে এই খরচের হিসাব করেছে, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে গত মার্চে রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই খরচ হয়েছিল অন্তত ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার। হেগসেথ শুনানিতে জানান, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের হিসাবে যুদ্ধের নির্দিষ্ট কিছু খাতের ব্যয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে আরও প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছেন, যার বড় অংশই ইরান যুদ্ধের জন্য বরাদ্দ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখেছে বলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করে আসছেন। শুনানিতে বরাদ্দবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, প্রেসিডেন্ট সংঘাত বাড়ানো ও যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন, যা আরেকটি ‘অনন্তকালের যুদ্ধের’ ইঙ্গিত দেয়। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অতীতে বলা কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল না থাকায় জনগণ ক্ষুব্ধ। কখনো বলা হচ্ছে যুদ্ধ শেষ, আবার বলা হচ্ছে শেষ হয়নি; কখনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা বলে আবার তা অস্বীকার করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে তহবিল না পেলে সামরিক প্রশিক্ষণ কমিয়ে দিতে হবে। এই যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের মূল বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে, যা সেনাসদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তহবিলকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও এই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, সেনাদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলেও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির বিনিয়োগে পেন্টাগনকে হিমশিম খেতে হবে। হেগসেথ কেবল অতিরিক্ত তহবিলই চাননি, বরং ২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের বাজেট পাসেরও জোর দাবি জানান। তাঁর মতে, এই বাজেট না দেওয়াই বর্তমানে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
চলতি মাসের শুরুতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। গত week-অ্যান্ডে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ জন। পেন্টাগন জানিয়েছে, গত ৭ জুলাইয়ের পর থেকে ১০০ সেনা আহত হলেও তাদের ৯৬ শতাংশই আবার কাজে ফিরেছেন। এদিকে ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ হামলার পরিধি বাড়ানোর এবং খারগ দ্বীপের তেলের খনি দখল করতে স্থলসেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা খুব শিগগির ধ্বংস করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।




























