৬০টির বেশি দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

- আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কার্যকর থাকা অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেমিসন গ্রিয়ার জানান, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কঠোর আইন রয়েছে। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এমন কোনো আইন নেই। আবার যেসব দেশে আইন রয়েছে, সেখানেও এর সঠিক প্রয়োগ দেখা যায় না। এই পরিস্থিতির কারণে শিগগিরই শুল্ক আরোপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে আইনি জটিলতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করে দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই নতুন আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে শুল্কনীতি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে প্রশাসন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের বদলে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থায়ী শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ প্রভাবিত হবে।
নতুন এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), চীন, জাপান, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলো। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর দাবি, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে তাদের নিজস্ব আইন অত্যন্ত কঠোর। তাই এই অজুহাতে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক চাপানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।




























