দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট: পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন, শিল্পে স্থবিরতা

- আপডেট সময় : ০৮:৩২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ঘর-গৃহস্থালিতে রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না, আবার কোথাও কোথাও গ্যাসের দেখা মেলাই দায় হয়ে পড়েছে। গ্যাসচালিত যানবাহন মালিক ও চালকরাও এই সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে পর্যাপ্ত জ্বালানি মিলছে না।
জ্বালানি বিভাগ ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি, কিন্তু নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর ফলে প্রতিদিন ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি থাকছে। এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে এখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হয়, কিন্তু ত্রুটির কারণে সরবরাহ অর্ধেক কমে যাওয়ায় গ্রাহকরা সংকটের মুখে পড়েছেন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ত্রুটি দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসসহ অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহক স্বল্পচাপের সমস্যায় ভুগবেন। এদিকে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশন মালিকরা আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন।
শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উদ্যোক্তারা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির চিত্রও ভয়াবহ; ঢাকার শান্তিনগর ও মিরপুরের মতো এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় মধ্যরাতেও তাদের রান্নাবান্নার কাজ সারতে হচ্ছে। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের তথ্যমতে, দেশে মোট ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকলেও উত্তোলনযোগ্য মজুত ২৮ দশমিক ৬২ টিসিএফ, যার মধ্যে ২৩ দশমিক ১২ টিসিএফ ইতিমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভাবকেই বিশেষজ্ঞরা এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন।
দেশব্যাপী তীব্র গ্যাস সংকটের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এ চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলছে। তবে এ বিপুল চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস ঘাটতি থাকছে।
শান্তিনগর বাজার রোড এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম জানান, তাদের এলাকায় কিছুদিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। সকাল ৭টায় নাস্তা তৈরি করতে চুলার কাছে গিয়ে দেখি গ্যাস নেই। ৩টার পর কিছু গ্যাস আসলে দুপুরের রান্নাবান্না করি। বিকাল থেকে আবার রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। মধ্যরাতে গিয়ে রাতের রান্নাবান্না করতে হয়। এতে অনেকটা অসুস্থ


























