আলিয়া মাদ্রাসার হলে উঠতে শিবিরের চেষ্টা, বকশীবাজারে উত্তেজনা ও পুলিশ মোতায়েন

- আপডেট সময় : ০৯:২২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আবাসিক হলে ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবেশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর থেকে সেখানে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হলের দিকে যাওয়ার পথে বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর ১২টার পর হলের ‘বৈধ সাধারণ শিক্ষার্থী’ ও ছাত্রশিবিরের নেতারা সম্মিলিতভাবে হলের দিকে রওনা হন। কিন্তু বকশীবাজার মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। পুলিশ সেখানে ব্যারিকেড দেওয়ায় মাদ্রাসার ভেতরের দিকে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারেনি, তবে মাদ্রাসা থেকে বকশীবাজারের দিকে গাড়ি বের হতে দেখা গেছে। বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক ও মাদ্রাসার গেটের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পূর্বে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। আজ একটি গ্রুপ আলিয়া মাদ্রাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নিরাপত্তা ও দ্বন্দ্ব এড়াতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দেখে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও তারা সবাই একত্রিত হয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিল। পুলিশ তাদের প্রতিনিধিদের প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দিলেও তারা তা শোনেনি। এছাড়া কোনো বহিরাগতকে মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করতে এসেছিলেন কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তাদের বাধা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড হলের কক্ষে থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি এবং পরীক্ষা দিতে পারেননি। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ তোলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলে অবস্থান করলেও বৈধ হল কার্ডধারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারছেন না।
আব্দুল আলীম বলেন, তারা কোনো দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং চান যেন হলে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরাই অবস্থান করুক। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতায় রেখে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে এবং হলে প্রবেশের দাবিতে আগামীকাল থেকে দেশবাসী ও ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করলেও মাদ্রাসার চারপাশে পুলিশ মোতায়েন থাকে।




























