ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জে ১০টি বিদ্যালয়ে গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ তিস্তাপাড়ের মানুষের দ্বিমুখী দুর্ভোগ: পানি বাড়লে বন্যা, কমলেই ভাঙন ময়মনসিংহে অটোরিকশাচালক হত্যায় ৯ মাস পর শ্বশুর ও শ্যালক গ্রেপ্তার মার্কিন বাজারে চীন-ভারতের চেয়ে কম ক্ষতিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ও তফসিল ঘোষণা আইএসইউ প্রকাশ করল তিনটি আন্তর্জাতিক মানের পিয়ার-রিভিউড জার্নাল বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কবি ও সাংবাদিক কাজী জেসিন ভারত থেকে আরও ডিজেল চেয়েছি: জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি নিজেই পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনে ১২৭৬ মসজিদসহ প্রায় ১৫০০ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইক অপসারণ

তিস্তাপাড়ের মানুষের দ্বিমুখী দুর্ভোগ: পানি বাড়লে বন্যা, কমলেই ভাঙন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ বছরের পর বছর ধরে এক ভয়াবহ দ্বিমুখী দুর্যোগের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তিস্তার পানি বাড়লেই বন্যা দেখা দেয়, আবার পানি কমতে শুরু করলেই শুরু হয় তীব্র নদীভাঙন।

বুধবার (৫ আগস্ট) তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত দেড় মাস ধরে তিস্তার পানি বারবার বাড়া-কমার ফলে একদিকে যেমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের ৭০ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল বাকি জানান, বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পানি বেড়ে তাদের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। বিকেলের দিকে পরিবারের সদস্য ও গবাদিপশু নিয়ে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তার রোপা আমনের ক্ষেত তলিয়ে গেছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ১০ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। সকাল ৯টায় পানি আরও ২ সেন্টিমিটার কমে। এর আগের দিন বুধবার সকালে একই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বুধবার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢল না এলে পানি বাড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, গত প্রায় দেড় মাস ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। এ অঞ্চলে সাধারণত আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং পানি বাড়লেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নেমে যায়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, স্থায়ী নদীশাসন ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাদের দুর্ভোগ কোনোদিনই শেষ হবে না। তাদের ভাষ্যমতে, “তিস্তার পানি বাড়লেও বিপদ, কমলেও বিপদ।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তাপাড়ের মানুষের দ্বিমুখী দুর্ভোগ: পানি বাড়লে বন্যা, কমলেই ভাঙন

আপডেট সময় : ১১:২১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
print news

লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ বছরের পর বছর ধরে এক ভয়াবহ দ্বিমুখী দুর্যোগের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তিস্তার পানি বাড়লেই বন্যা দেখা দেয়, আবার পানি কমতে শুরু করলেই শুরু হয় তীব্র নদীভাঙন।

বুধবার (৫ আগস্ট) তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত দেড় মাস ধরে তিস্তার পানি বারবার বাড়া-কমার ফলে একদিকে যেমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের ৭০ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল বাকি জানান, বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পানি বেড়ে তাদের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। বিকেলের দিকে পরিবারের সদস্য ও গবাদিপশু নিয়ে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তার রোপা আমনের ক্ষেত তলিয়ে গেছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ১০ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। সকাল ৯টায় পানি আরও ২ সেন্টিমিটার কমে। এর আগের দিন বুধবার সকালে একই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বুধবার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢল না এলে পানি বাড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, গত প্রায় দেড় মাস ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। এ অঞ্চলে সাধারণত আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং পানি বাড়লেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নেমে যায়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, স্থায়ী নদীশাসন ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাদের দুর্ভোগ কোনোদিনই শেষ হবে না। তাদের ভাষ্যমতে, “তিস্তার পানি বাড়লেও বিপদ, কমলেও বিপদ।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin