সাইবার আইনের খসড়ায় সাংবাদিকদের উদ্বেগ ও শঙ্কার কারণ
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর বেশ কিছু ধারা সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা, মানহানি, বুলিং, গুজব ও ভুল তথ্যের সংজ্ঞায়ন এবং ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সাংবাদিক এবং অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন।
খসড়া আইনের ৮(২) ধারায় শুধু প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং সম্ভাব্য আশঙ্কার ভিত্তিতেও অনলাইন কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর আওতায় কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের জন্য ‘মানহানিকর’ বা ‘অবমাননাকর’ তথ্য সহজেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এছাড়া খসড়ার ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি ও পর্নোগ্রাফির পাশাপাশি মানহানি, অপমান, হেয়প্রতিপন্ন করা এবং বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে, যা সাংবাদিকদের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইন ও মানবাধিকার সংগঠন ‘ব্লাস্ট’ সতর্ক করে বলেছে, বুলিংয়ের সংজ্ঞা ও পরিধি অতিরিক্ত বিস্তৃত হলে তা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক বক্তব্য, ব্যঙ্গ বা ভিন্নমতের বৈধ প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সংগঠনটি ধারা ২৫ থেকে মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বুলিংয়ের অপরাধকে কেবল গুরুতর, ইচ্ছাকৃত এবং ধারাবাহিক ডিজিটাল হয়রানি বা হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করেছে ব্লাস্ট।
প্রস্তাবিত ২৬(ক) ধারা অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে ‘গুজব’ বা ‘ভুল তথ্য’ প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে, যার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ বা ‘বিভ্রান্তিকর তথ্যের’ মতো শব্দগুলোর কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। ব্লাস্টের মতে, যাচাই না করা তথ্য মানেই মিথ্যা তথ্য নয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য যাচাই করা সবসময় সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতায় সংগঠনটি ২৬(ক) ধারাটি বাতিলের সুপারিশ করেছে।




























