ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক সোনম ওয়াংচুকের শহীদ কাদরীর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’: প্রেম ও দ্রোহের আধুনিক গাথা সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল রফিকুল ইসলামের শেষ বিদায় ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা শাড়ি নিয়ে প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা দীপ্ত টিভিতে আসছে তুর্কি ড্রামা সিরিজ অনন্ত ভালোবাসা গ্যাস সংকটে হাহাকার: চুলা জ্বলছে না ঘরে, পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দিনাজপুরে গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকার যুবকেরা মাতৃত্বই জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক কাজ, বললেন স্মৃতি ইরানি কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শিক্ষার্থীর বিকাশে বিদ্যালয় ও পরিবারের অংশীদারিত্ব কেন জরুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমাদের অধিকাংশ শিশুই কেন বিদ্যালয়কে ভয়ের জায়গা হিসেবে দেখে? কেন প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল থেকে যায় এবং কেনই বা অনেক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের প্রতি কোনো আবেগ অনুভব করে না? এই প্রশ্নগুলো কেবল বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নয়, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমরা প্রায়ই শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলি, কিন্তু ভুলে যাই যে শিশুর শিক্ষা কেবল বিদ্যালয়ে নয়, বরং পরিবার থেকেই শুরু হয়। যখন বিদ্যালয় ও পরিবার আলাদা পথে চলে, তখন শিশুর শেখার প্রক্রিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও পরিবারের অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।

পরিবার হলো শিশুর প্রথম পাঠশালা, যেখানে সে ভালোবাসা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার প্রথম পাঠ পায়। বিদ্যালয় সেই শিক্ষাকে সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করে। এই দুটি প্রতিষ্ঠান একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু আধুনিক ব্যস্ততা, প্রযুক্তি এবং যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার ফলে শিশুরা আবেগগতভাবে একা হয়ে পড়ছে। দাদা-দাদি বা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জীবনমুখী শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের সামাজিক আচরণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় বিদ্যালয়কে কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দেওয়ার স্থান নয়, বরং একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিদ্যালয় ও পরিবারের কার্যকর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, কানাডা ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি (PTA) এবং নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারকে শিক্ষা প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশ করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যালয় কেবল পরীক্ষার ফলের ওপর গুরুত্ব দেয় না, বরং শিক্ষার্থীর আচরণ, মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত বিকাশে পরিবারকে সম্পৃক্ত রাখে।

গল্প বলা হতে পারে এই অংশীদারিত্বের একটি সহজ ও কার্যকর উপায়। বর্তমান সময়ে শিশুরা গল্প শোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত গল্প বলার কার্যক্রম চালু করলে তা ভাষা দক্ষতা, কল্পনাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটাবে। গল্পের মাধ্যমে সততা ও সহমর্মিতার মতো মূল্যবোধগুলো আনন্দদায়কভাবে শেখানো সম্ভব। শ্রেণিকক্ষে গল্প বলার চর্চা শিক্ষার্থীদের পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না করে সহযোগী হিসেবে গড়ে তোলে এবং অতিরিক্ত পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিক চাপ কমায়।

বাংলাদেশেও বিদ্যমান সময়সূচির মধ্যেই সপ্তাহে একটি গল্প বলার ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে অভিভাবকরাও যুক্ত হতে পারেন, যেখানে শিশুরা বাড়ি থেকে গল্প সংগ্রহ করে বা নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থাপন করবে। যদিও একটি গল্প বলার ক্লাস পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাতারাতি বদলে দেবে না, তবে এটি শেখাকে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে। এতে স্কুলভীতি কমবে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে আপন মনে করবে এবং তাদের মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। সবশেষে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর একটি নিজস্ব শেখার গল্প তৈরি হবে, যা তাকে কেবল পরীক্ষায় ভালো করা নয়, বরং একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীর বিকাশে বিদ্যালয় ও পরিবারের অংশীদারিত্ব কেন জরুরি

আপডেট সময় : ০১:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

আমাদের অধিকাংশ শিশুই কেন বিদ্যালয়কে ভয়ের জায়গা হিসেবে দেখে? কেন প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল থেকে যায় এবং কেনই বা অনেক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের প্রতি কোনো আবেগ অনুভব করে না? এই প্রশ্নগুলো কেবল বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নয়, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমরা প্রায়ই শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলি, কিন্তু ভুলে যাই যে শিশুর শিক্ষা কেবল বিদ্যালয়ে নয়, বরং পরিবার থেকেই শুরু হয়। যখন বিদ্যালয় ও পরিবার আলাদা পথে চলে, তখন শিশুর শেখার প্রক্রিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও পরিবারের অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।

পরিবার হলো শিশুর প্রথম পাঠশালা, যেখানে সে ভালোবাসা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার প্রথম পাঠ পায়। বিদ্যালয় সেই শিক্ষাকে সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করে। এই দুটি প্রতিষ্ঠান একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু আধুনিক ব্যস্ততা, প্রযুক্তি এবং যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার ফলে শিশুরা আবেগগতভাবে একা হয়ে পড়ছে। দাদা-দাদি বা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জীবনমুখী শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের সামাজিক আচরণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় বিদ্যালয়কে কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দেওয়ার স্থান নয়, বরং একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিদ্যালয় ও পরিবারের কার্যকর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, কানাডা ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি (PTA) এবং নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারকে শিক্ষা প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশ করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যালয় কেবল পরীক্ষার ফলের ওপর গুরুত্ব দেয় না, বরং শিক্ষার্থীর আচরণ, মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত বিকাশে পরিবারকে সম্পৃক্ত রাখে।

গল্প বলা হতে পারে এই অংশীদারিত্বের একটি সহজ ও কার্যকর উপায়। বর্তমান সময়ে শিশুরা গল্প শোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত গল্প বলার কার্যক্রম চালু করলে তা ভাষা দক্ষতা, কল্পনাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটাবে। গল্পের মাধ্যমে সততা ও সহমর্মিতার মতো মূল্যবোধগুলো আনন্দদায়কভাবে শেখানো সম্ভব। শ্রেণিকক্ষে গল্প বলার চর্চা শিক্ষার্থীদের পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না করে সহযোগী হিসেবে গড়ে তোলে এবং অতিরিক্ত পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিক চাপ কমায়।

বাংলাদেশেও বিদ্যমান সময়সূচির মধ্যেই সপ্তাহে একটি গল্প বলার ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে অভিভাবকরাও যুক্ত হতে পারেন, যেখানে শিশুরা বাড়ি থেকে গল্প সংগ্রহ করে বা নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থাপন করবে। যদিও একটি গল্প বলার ক্লাস পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাতারাতি বদলে দেবে না, তবে এটি শেখাকে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে। এতে স্কুলভীতি কমবে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে আপন মনে করবে এবং তাদের মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। সবশেষে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর একটি নিজস্ব শেখার গল্প তৈরি হবে, যা তাকে কেবল পরীক্ষায় ভালো করা নয়, বরং একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor