চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

- আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের সংকট নিরসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিতে একজন করে অস্থায়ী প্রশাসক এবং দুজন করে সহযোগী প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে মোট ১২ জন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়ায় কাজ করবেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এর আগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে আদালতের আদেশ না পাওয়ায় সেটির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিয়োগের বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, আভিভা ফাইন্যান্সে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক মো. আলাউদ্দীন হোসেনকে অস্থায়ী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার সহযোগী হিসেবে থাকছেন এ কে এম গোলাম বহুলুল ও মো. মাহবুবুর রহমান। এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক আবু সামা মো. আতাউর রহমান এবং তাঁর সহযোগী হিসেবে রয়েছেন রোকসানা আক্তার ও মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বসির। ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে মো. সাদেকুর রহমানকে প্রশাসক এবং সাদরিল আহমেদ ও মো. আল-আমিনকে সহযোগী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে প্রশাসক এবং ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে সরকারের সম্মতিও পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্সে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঋণ খেলাপি অবস্থায় রয়েছে।



























