ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, স্বপ্ন পূরণ হলো অনুশ্রী ও রাকিবের খাগড়াছড়িতে পথ হারানো শিশু আরমান ফিরল মায়ের কোলে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ সহকর্মীকে ধর্ষণ: তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তেজপালের ১০ বছরের কারাদণ্ড ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে: নাহিদ ইসলাম ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন প্রসিকিউশনের হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৬০ জন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা জারি রায়গঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদ নজরুলের স্মরণে সড়ক উদ্বোধন

সহকর্মীকে ধর্ষণ: তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তেজপালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

সহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় ভারতের তেহেলকা সাময়িকীর সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট। ২০২১ সালে নিম্ন আদালতের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করে বিচারপতি নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসানদেকরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই সাজার আদেশ দেন।

৬১ বছর বয়সী তরুণ তেজপালকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৭৬ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫৪ (এ) ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৫৪ (বি) ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তেজপালের এই সাজাগুলো একসঙ্গে চলবে, যার অর্থ তাঁকে মোট ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার জন্য তাঁকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে মহারাষ্ট্রের গোয়ার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘থিংকফেস্ট’ সম্মেলন চলাকালে এক জুনিয়র সহকর্মীকে লিফটে ধর্ষণের অভিযোগে তেজপালের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জানান, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর হোটেলের লিফটে তেজপাল তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং পরদিন আবারও নির্যাতনের চেষ্টা করেন। তেজপালের বিরুদ্ধে ৩৭৬, ৩৫৪ এ, ৩৫৪ বি ছাড়াও বেআইনিভাবে পথ রোধ (৩৪১) ও আটকে রাখার (৩৪২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এই মামলার বিচারকাজ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হলেও তেজপালের আপিলের কারণে তা বারবার স্থগিত হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৯ সালে বিচারপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয় এবং ২০২০ সাল থেকে প্রতিদিন শুনানি চলে। এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে গোয়ার অতিরিক্ত সেশন জজ ক্ষমা জোশি ‘সন্দেহের সুবিধা’ দিয়ে তেজপালকে খালাস দিয়েছিলেন। তখন আদালত বলেছিলেন, মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং হোটেলের লিফটে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না।

নিম্ন আদালতের ওই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রসিকিউশন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও গোয়া পুলিশ যুক্তি দেন, নিম্ন আদালত ভুক্তভোগীর আচরণ নিয়ে ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তাঁর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দেখিয়ে দাবি করেছিল, ঘটনার পরও অভিযোগকারী স্বাভাবিক ছিলেন এবং হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তেজপালকে ডেকেছিলেন। ২০১৩ সালে তেহেলকা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে তেজপাল ঘটনাটিকে ‘বিবেচনার চরম ভুল’ বলে উল্লেখ করলেও পরে দাবি করেন তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সহকর্মীকে ধর্ষণ: তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তেজপালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
print news

সহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় ভারতের তেহেলকা সাময়িকীর সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট। ২০২১ সালে নিম্ন আদালতের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করে বিচারপতি নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসানদেকরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই সাজার আদেশ দেন।

৬১ বছর বয়সী তরুণ তেজপালকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৭৬ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫৪ (এ) ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৫৪ (বি) ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তেজপালের এই সাজাগুলো একসঙ্গে চলবে, যার অর্থ তাঁকে মোট ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার জন্য তাঁকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে মহারাষ্ট্রের গোয়ার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘থিংকফেস্ট’ সম্মেলন চলাকালে এক জুনিয়র সহকর্মীকে লিফটে ধর্ষণের অভিযোগে তেজপালের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জানান, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর হোটেলের লিফটে তেজপাল তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং পরদিন আবারও নির্যাতনের চেষ্টা করেন। তেজপালের বিরুদ্ধে ৩৭৬, ৩৫৪ এ, ৩৫৪ বি ছাড়াও বেআইনিভাবে পথ রোধ (৩৪১) ও আটকে রাখার (৩৪২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এই মামলার বিচারকাজ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হলেও তেজপালের আপিলের কারণে তা বারবার স্থগিত হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৯ সালে বিচারপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয় এবং ২০২০ সাল থেকে প্রতিদিন শুনানি চলে। এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে গোয়ার অতিরিক্ত সেশন জজ ক্ষমা জোশি ‘সন্দেহের সুবিধা’ দিয়ে তেজপালকে খালাস দিয়েছিলেন। তখন আদালত বলেছিলেন, মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং হোটেলের লিফটে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না।

নিম্ন আদালতের ওই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রসিকিউশন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও গোয়া পুলিশ যুক্তি দেন, নিম্ন আদালত ভুক্তভোগীর আচরণ নিয়ে ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তাঁর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দেখিয়ে দাবি করেছিল, ঘটনার পরও অভিযোগকারী স্বাভাবিক ছিলেন এবং হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তেজপালকে ডেকেছিলেন। ২০১৩ সালে তেহেলকা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে তেজপাল ঘটনাটিকে ‘বিবেচনার চরম ভুল’ বলে উল্লেখ করলেও পরে দাবি করেন তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo