ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন প্রসিকিউশনের
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউশন এ আবেদন করেন।
এ মামলায় প্রসিকিউশন একটি কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরাসরি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কল রেকর্ডের কথোপকথনে ওবায়দুল কাদেরকে সাদ্দাম হোসেনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন’। উত্তরে সাদ্দাম জানান, পুলিশ তাদের মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ওবায়দুল কাদেরের এই নির্দেশনার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলার জন্য উজ্জীবিত হয়েছিল।
গত ৪ আগস্ট থেকে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতে বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত, সুসংগঠিত ও দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করার পর ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারায়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। বর্তমানে আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল। গত ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য, নির্দেশ ও প্ররোচনা দিয়েছেন। তারা রাজপথে নেতাকর্মীদের নামিয়ে সশস্ত্র হামলা, দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছেন, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

























