ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদে মিসাইল আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময়ও তাদের তাড়া করে ফিরছে মৃত্যুভয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় অনেক প্রবাসীই নির্ঘুম রাত পার করছেন, আবার পরিবার ও স্বজনদের জীবিকার কথা চিন্তা করে দেশে ফিরতে পারছেন না তারা।

গত ১০ই অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি এবং আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মদ ও কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী। তাদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১ জন কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী রয়েছেন। তারা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং মো. ওমর ফারুক (সৌদিপ্রবাসী কর্মী)। ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফকাত রহমান (নওগাঁ) ও মো. দাউদুল ইসলাম (কুমিল্লা); এর মধ্যে সাফকাত রহমান অচেতন অবস্থায় আছেন। রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন (উভয়ের বাড়ি ঢাকা)। প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আব্দুল্লাহ (ঢাকা)। সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেনসহ (ঢাকা) তিন বাংলাদেশি কর্মী চিকিৎসাধীন। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রফিক মিয়া। কিং খালেদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। এছাড়া এজতাহ সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল; সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রিয়াদে থাকা প্রবাসী নাজমুল ইসলাম জানান, দিনের মধ্যে আট-দশবার আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তিনি বলেন, আমরা থাকি মিসাইল আতঙ্কে আর পরিবারের লোকজন থাকেন আমাদের মৃত্যুর আতঙ্কে। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নোয়াখালীর অনেক প্রবাসীও তার সঙ্গে একই কারখানায় কাজ করেন। হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায় না, কেবল হামলার সময় সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা মোবাইলে আসে। আরিফুল ইসলাম নামে আরেক প্রবাসী জানান, কাজ তো করতেই হবে, তাই আতঙ্ক নিয়েই কাজে যেতে হয়। আনোয়ার হোসেন নামে আরেক প্রবাসী জানান, ইকামার উচ্চ খরচ ও আয়ের একটি বড় অংশ এতে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় দেশে ছুটিতে আসা প্রবাসীরাও ফিরতে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রিয়াদ বিমানবন্দরের অদূরে অবস্থানকারী নোয়াখালীর এক প্রবাসী জানান, হুতিদের হামলা ও মিসাইল আতঙ্ক তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে, কোথাও শান্তি পাচ্ছেন না তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

রিয়াদে মিসাইল আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

আপডেট সময় : ০১:১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময়ও তাদের তাড়া করে ফিরছে মৃত্যুভয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় অনেক প্রবাসীই নির্ঘুম রাত পার করছেন, আবার পরিবার ও স্বজনদের জীবিকার কথা চিন্তা করে দেশে ফিরতে পারছেন না তারা।

গত ১০ই অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি এবং আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মদ ও কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী। তাদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১ জন কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী রয়েছেন। তারা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং মো. ওমর ফারুক (সৌদিপ্রবাসী কর্মী)। ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফকাত রহমান (নওগাঁ) ও মো. দাউদুল ইসলাম (কুমিল্লা); এর মধ্যে সাফকাত রহমান অচেতন অবস্থায় আছেন। রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন (উভয়ের বাড়ি ঢাকা)। প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আব্দুল্লাহ (ঢাকা)। সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেনসহ (ঢাকা) তিন বাংলাদেশি কর্মী চিকিৎসাধীন। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রফিক মিয়া। কিং খালেদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। এছাড়া এজতাহ সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল; সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রিয়াদে থাকা প্রবাসী নাজমুল ইসলাম জানান, দিনের মধ্যে আট-দশবার আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তিনি বলেন, আমরা থাকি মিসাইল আতঙ্কে আর পরিবারের লোকজন থাকেন আমাদের মৃত্যুর আতঙ্কে। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নোয়াখালীর অনেক প্রবাসীও তার সঙ্গে একই কারখানায় কাজ করেন। হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায় না, কেবল হামলার সময় সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা মোবাইলে আসে। আরিফুল ইসলাম নামে আরেক প্রবাসী জানান, কাজ তো করতেই হবে, তাই আতঙ্ক নিয়েই কাজে যেতে হয়। আনোয়ার হোসেন নামে আরেক প্রবাসী জানান, ইকামার উচ্চ খরচ ও আয়ের একটি বড় অংশ এতে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় দেশে ছুটিতে আসা প্রবাসীরাও ফিরতে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রিয়াদ বিমানবন্দরের অদূরে অবস্থানকারী নোয়াখালীর এক প্রবাসী জানান, হুতিদের হামলা ও মিসাইল আতঙ্ক তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে, কোথাও শান্তি পাচ্ছেন না তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin