দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলার
- আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে আমদানি ব্যয় এবং রপ্তানি আয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ায় এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশের আমদানি ব্যয় ১২.১ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় ৫.৮ শতাংশ বেড়ে ৮৩৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেল আমদানিতে উচ্চ ব্যয় এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানির বাড়তি খরচই আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ। জুলাই-আগস্ট মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে ২৪৯ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় ১১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়া আমদানি ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ। তিনি আরও জানান, আর্থিক হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় ৬১ শতাংশ কমে যাওয়া এবং ট্রেড ক্রেডিটে ঋণাত্মক অবস্থান এর জন্য দায়ী। জুলাই-আগস্ট সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে, যেখানে ঋণের আসল পরিশোধ হয়েছে ৫৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।
তবে বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাবে ঘাটতি থাকলেও চলতি হিসাবে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত তিন গুণের বেশি বেড়ে ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ শতাংশ।
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয়ও ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ৭৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আগস্ট শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, যা দিয়ে প্রায় ৫.২ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আর্থিক হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) ঘাটতিও বেড়েছে। এর পেছনে মূলত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় ৬১ শতাংশ কমে যাওয়া এবং ট্রেড ক্রেডিটে ঋণাত্মক অবস্থানকে দায়ী করেন তিনি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০.৯ শতাংশ কমে ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ঋণের আসল পরিশোধ হয়েছে ৫৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।



























