মাদারগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন, ২ হাজার টন উৎপাদনের সম্ভাবনা: কৃষকের মুখে হাসি
- আপডেট সময় : ১২:২১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে শসার সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই অঞ্চলে শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত শসা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা। অনুকূল আবহাওয়ার কারণেই এবার ফলন ভালো হয়েছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার চাষ করেছেন। মাচায় হলুদ-সাদা ফুল ফুটেছে এবং কোথাও থরে থরে শসা ঝুলছে। অনেক কৃষককে জমিতে সেচ দিতে, গাছের পরিচর্যা করতে এবং ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরতে দেখা গেছে। শসা ভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।
কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবার আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।
ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান জানান, শসার বীজ রোপণের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। তিনি বলেন, “এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। তিনি আরও বলেন, “এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।”
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, এবার প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যার ফলে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনও ভালো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



























